Showing posts with label জীবনযাপন. Show all posts
Showing posts with label জীবনযাপন. Show all posts

Friday, May 5, 2017

অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস অনেকের- যা একেবারেই অনুচিত। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক ২৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ প্রয়োজন নেই। এর বেশি লবণ খেলেই শুরু হয়ে যায় নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যা। বাড়তি লবণ খেলে স্ট্রোক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা শুরু হতে পারে।

চলুন জেনে নেয়া যাক অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কুফল সম্পর্কে-   

# পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কাঁচা লবণ অধিক পরিমাণে খেলে।
# অতিরিক্ত লবণ খেলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
# অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তের সোডিয়াম বেড়ে যায়। ফলে উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
# বেশি লবণ খাওয়ার কারণে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে কমতে থাকে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ। এতে হাড় ক্ষয় হতে থাকে। 
# প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ খেলে শরীরের তরল পদার্থ বিলীন হতে থাকে। এতে হাত ও পায়ে পানি চলে আসে।
# হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় কাঁচা লবণ।
# পানিশূন্যতা, ঘনঘন পানির পিপাসা লাগা, বমি ভাব এমনকি ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে শরীরে লবণের আধিক্য দেখা দিলে।
প্রতিদিনের কাজের চাপে মাথা ব্যাথা, পিঠব্যাথা বা পা-ব্যাথা হতেই পারে। আর এ থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে অনেকেই ওষুধ খেয়ে থাকে। যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই ব্যাথা কমানোর জন্য প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া কিছু প্রতিষেধক ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
ব্যাথা একটি বিরক্তিকর রোগ। বিভিন্ন কারণে মানুষের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাথা হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ঠাণ্ডা থেকে, বিছানায় ভুল ভাবে ঘুমানোর জন্য, এবং হঠাৎ কোনো শারীরিক পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে, এ ধরণের ব্যাথা হয়ে থাকে। তাই ওষুধের বদলে প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া কিছু প্রতিষেধক খেয়েও শরীরের ব্যাথা উপশম করা যায়।

চলুন জেনে নেই এমন কিছু খাবারের নাম ও বৈশিষ্ট্য যা শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যাথা হতে মুক্তি দিতে পারে।

কফি: ক্যাফেইন ব্যাথা নিরাময়ে বেশ কার্যকর। বিশেষ করে পেশি ও মাথা-ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে কফি বেশ উপযোগী। প্রতিদিন দুই কাপ কফি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

আদা: অ্যান্টিইনফ্লামাটরি উপাদান সমৃদ্ধ আদা বাতের ব্যাথা, পেট ও বুকের ব্যাথা এমনকি মাংসপেশির প্রদাহের কারণে হওয়া ব্যাথা উপশমে সহায়ক। আদা ছেঁচে একটি পরিষ্কার কাপড়ে পেঁচিয়ে ব্যাথার স্থানে চেপে ধরে রাখলে আরাম পাওয়া যাবে।

হলুদ: ‘স্পাইস কারকউমিন’ নামক একটি উপাদানের কারণে হলুদ রং হয়ে থাকে এই মসলায়। আর এতে আছে প্রচুর অ্যান্টিইনফ্লামাটরি উপাদান যা অনেক ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের মতো কাজ করে থাকে। তাই মাংসপেশি এবং শরীরের বিভিন্ন সংযোগ স্থলে ব্যাথা উপশমে হলুদ বেশ উপকারী। দুধের সঙ্গে মিশিয়ে বা চায়ের সঙ্গে হলুদ সেবন করলে উপকার পাওয়া যাবে।

লবণ: গোসলের সময় কুসুম গরম পানিতে ১০ থেকে ১৫ টেবিল-চামচ লবণ মিশিয়ে ১৫ মিনিট এ পানিতে শরীর ভিজিয়ে রাখুন। এই লবণ পানি শরীরের পেশি এবং কোষ শিথীল করে এবং ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।

টক দই: পেট ফাঁপা, জ্বলুনি এবং ব্যাথা কমাতে দই বেশ উপযোগী। দইয়ের ব্যাক্টেরিয়া হজমে সহায়তা করে ফলে পেটের ব্যাথা বা জ্বলুনি কমিয়ে আরাম দেয়। প্রতিদিন এক বাটি টক দই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

লাল আঙুর: রেসভেরাট্রল নামক একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতির কারণে এই আঙুরের রং এমন লালচে হয়ে থাকে। আর এই উপাদান পিঠ ব্যাথাসহ বিভিন্ন ব্যাথা উপশমে সহায়তা করে। এক মুঠো পরিমাণ লাল আঙুর খেলে ব্যাথা কিছুটা কমে আসবে।

মরিচ: মরিচে রয়েছে ক্যাপসাইসিন নামক একটি উপাদান যা বিভিন্ন ধরনের ব্যাথানাশক ক্রিমে পাওয়া যায়। এই উপাদান স্নায়ুকে আরাম দেয় এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে মরিচ খাওয়ার অভ্যাস করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
তেল, ঝাল, মশলা সব খাচ্ছেন। হাত ধুচ্ছেন, মুখ ধুচ্ছেন। কিন্তু রোজ কিডনি পরিষ্কার করছেন কি? দূষিত পদার্থ জমে জমে বারোটা বাজছে কিডনির। হাতের কাছেই আছে সমাধান। কীভাবে পরিষ্কার করবেন কিডনি? দেখুন, কিডনি পরিষ্কারের ঘরোয়া টোটকা।
বছরের পর বছর, দিনের পর দিন কিডনি ঠিক এভাবেই ছাঁকনির কাজ করে চলে। লবন, বিষ এবং অবাঞ্ছিত পদার্থ শরীরে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু কিডনি অকেজো হয়ে গেলে শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য রক্তে জমা হয়। তখন বেঁচে থাকাই মুশকিল।
মারাত্মক ডায়েরিয়া বা শরীরে পানির অভাবে কিডনির দফারফা হতে পারে। টাইফয়েড বা ডেঙ্গুজ্বর, অকারণ অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথা কমানোর ওষুধের সাইড এফেক্ট থেকে কিডনির সমস্যা হতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির নিজস্ব কিছু রোগের কারণে কিডনির ক্রনিক সমস্যা তৈরি হয়। শেষ ধাপ এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ।তখন প্রয়োজন ডায়ালিসিস অথবা কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট। ফাস্ট লাইফস্টাইল, চূড়ান্ত ব্যস্ততার জীবনে কিডনির সমস্যায় ভোগেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। তাহলে কিডনি ভাল রাখার উপায় কী? হাতের কাছেই রয়েছে চটজলদি সমাধান।
পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে একআঁটি ধনেপাতা। কুচি কুচি করে কেটে পাত্রে রাখতে হবে ধনেপাতা। পাত্রে কিছুটা পরিষ্কার জল নিয়ে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে রাখতে হবে। ফ্রিজে রেখে দেওয়া যেতে পারে ওই বোতল। প্রতিদিন একগ্লাস করে ধনেপাতার জুস খেলেই হাতেনাতে মিলবে ফল। কিডনির মধ্যে জমে থাকা লবন এবং বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে।
শুধু কিডনিই নয়। ধনেপাতা মহৌষধ। একআঁটি ধনেপাতায় রয়েছে ১১% ফাইবার, ৪% প্রোটিন, ১% ক্যালরি, ১% কার্বোহাইড্রেট, ১% ফ্যাট। ম্যাঙ্গানিজ ২১%, পটাসিয়াম ১৫%, কপার ১১%, আয়রন ১০%, ক্যালসিয়াম ৭%। এতে রয়েছে ৩৮৮% ভিটামিন k, ১৩৫% ভিটামিন A, ৪৫% ভিটামিন C, ১৬% ফলেট।
ধনেপাতায় হাজার গুণ। এগজিমা সারায়, বমিভাব কমায়, পেটের গণ্ডগোল কমায়, আলসার সারায়, সতেজ হয় শ্বাস-প্রশ্বাস, হজমে সাহায্য করে, ব্লাড প্রেশার কমায়, অ্যানিমিয়া কমায়, ডায়াবেটিসে প্রচুর উপকার মেলে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। কনজাংটিভাইটিস থেকে চোখকে রক্ষা করে ধনেপাতা। স্মল পক্স প্রতিরোধ করে ধনেপাতা।

Saturday, April 8, 2017

সব মানুষই চায় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন।এর জন্য যে কাজ গুলো করতে হয় তা করতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খান। মানুষ ভবিষ্যতের লাভের জন্য বর্তমানের আনন্দকে ত্যাগ করাটা খুব কঠিন মনে করে। বর্তমান শতাব্দীতে উন্নত ঔষধ, উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও ব্যাক্তি সতর্কতার ফলে বিশ্বের প্রথম সাড়ির দেশ গুলুতে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে একজন পুরুষের গড় আয়ু ৬৮.৫ বছর এবং একজন মহিলার গড় আয়ু ৭৩.৫বছর। শুধুমাত্র দীর্ঘ জীবন নয় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পাওয়ার জন্য কতগুলো পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

আসুন জেনে নেই সেই পন্থা গুলো ও এগুলো অনুসরণের মাধ্যমে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করি:

১। প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ বন্ধ করুন
প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক বেশি চিনি, লবণ ও ফ্যাট থাকে এবং এইসব খাবারে ফাইবার/ আঁশ কম থাকে। প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে হার্ট অ্যাটাক, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।তাই আপনার খাদ্য তালিকা থেকে প্রসেসড ফুড বাদ দিয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশ জাতীয় খাবার খান,ধূমপানের অভ্যাস থাকলে বাদ দিন এবং প্রচুর পানি পান করুন।
২। নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন
নেতিবাচকতা আপনার ভেতরের শক্তিকে নষ্ট করে দেয় এবং আপনার স্ট্রেস লেভেল বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রাগ, হতাশা, বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতা বৃদ্ধি পায় এবং অধিক খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচক হোন। আপনার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন এতে আপনার স্ট্রেস কমবে ফলে আপনি দীর্ঘজীবী হবেন।
৩। একভাবে বসে থাকবেন না
বর্তমানের একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, ব্যায়ামের মাধমে দীর্ঘমেয়াদি অসুখ যেমন- ক্যান্সার ও স্থূলতা র সম্ভাবনা কমায়। দিনে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম আপনার আয়ু বাড়িয়ে দেবে। ২০১১ সালে The Lancet e প্রকাশিত গবেষণা পত্রে দেখা গেছে যে, দিনে ১৫ মিনিটের ব্যায়াম যারা করেছেন তাদের আয়ু ৩ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যারা দিনে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেছেন তাদের আয়ু ৪ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের ৪১৬০০০ নারী ও পুরুষ কে নিয়ে এই গবেষণাটি করা হয়। তাই দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা লাভের জন্য সারাদিনের কিছুটা সময় বেছে নিন ব্যায়ামের জন্য।
৪। রাতের ঘুম ছাড় দেবেন না
ঘুমের ব্যাপারে কার্পণ্য করবেন না। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এর জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন । ২০০৭ সালে ঘুম বিষয়ক একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা পত্র থেকে জানা যায় যে , ঘুমের হ্রাস বৃদ্ধি মানুষের মৃত্যু হারের উপর প্রভাব বিস্তার করে। নিয়মিত কম ঘুমালে হৃদরোগ,ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। আর নিয়মিত ভালো ঘুম হলে স্ট্রেস, ডিপ্রেশন ও হার্ট ডিজিজ দ্রুত ভালো হয়।
বড় কোন পরিবর্তন নয় ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের জীবনযাপনের ধরণের পরিবর্তন করুন। আপনার বাবা বা দাদা অনেকদিন বেঁচে ছিলেন বলে আপনিও অনেকদিন বেঁচে থাকবেন তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য আপনাকে কোন চেষ্টা করতে হবেনা এমনটা ভাববেন না। আবার আপনার পূর্ব পুরুষ রা দীর্ঘায়ু লাভ করেন নি বলে আপনি ও দীর্ঘজীবী হতে পারবেন না এই ধরণের ধারণা বা ভয় ও লালন করা ঠিক না। ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করুন এবং জীবনে সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু লাভ করে জীবনকে পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করুন।

Wednesday, April 5, 2017

কানে পানি ঢুকে কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার চাইতে বিব্রতকর সমস্যা আর কিছুই হতে পারে না। খুবই বিচিত্র একটা অনুভব, সেটা কাউকে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। অন্যদিকে কানে পানি রয়ে গেলে কান পাকা ও তীব্র ব্যথা সহ নানান রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। অনেকেই কানে পানি ঢুকলে কটন বাড দিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। এই কাজটি একেবারেই ভুল! বরং জেনে নিন কান থেকে পানি বের করার ৬টি সঠিক উপায়।

১) কান থেকে পানি বের করার সবচাইতে নিরাপদ উপায়টি হচ্ছে গ্রাভিটিকে কাজ করতে দেয়া। যে কানে পানি ঢুকেছে, সেই দিকে মাথাটি কাত করুন। তারপর হাতের তালু রাখুন কানের উপরে এবং চাপ দিন। চাপ দিয়েই হাতটি সরিয়ে নিন। দেখবেন খানিকটা পানি বের হয়ে গেছে। এভাবে বেশ কয়েকবার করুন। পানি বের হয়ে কান বন্ধ হওয়ার সমস্যা দূর হবে।

২) আরেকটি উপায় হচ্ছে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে পানি বের করা। একটি লম্বা শ্বাস নিন, এবার দুই আঙুল দিয়ে নাকের ফুটো বন্ধ করে ফেলুন। এখন এই বন্ধ নাক দিয়েই নিঃশ্বাস ফেলার চেষ্টা করুন। খুব জোরে বল প্রয়োগ করতে হবে না, সাধারণত যেভাবে নিঃশ্বাস ফেলেন সেভাবে ফেললেই হবে। কানে আওয়াজ শুনতে পাবেন, বুঝবেন যে পানি বের করে বন্ধ কান ঠিক হয়ে গেছে।

৩) যে কানে পানি ঢুকেছে, সেই কানটি বালিশে চাপা দিয়ে শুয়ে থাকুন এবং সম্ভব হলে ঘুমিয়ে পড়ুন। ঘুম ভাঙলে দেখবেন পানির সমস্যা নেই।

৪) চুইং গাম বা যে কোন কিছু চিবিয়ে খান। যেটা বেশ করে চিবাতে হয়, এমন খাবার বেছে নিন। খাবার চিবানোর সময় যে মুভমেন্ট তৈরি হবে, সেটা বন্ধ কানকে খুলে দিতে সহায়ক।

৫) হাই তুললেও কানের পানি বেরিয়ে বন্ধ কান খুলে যায়।

৬) হেয়ার ড্রায়ার বেশ ভালো কাজ করে এক্ষেত্রে। একদম লো-তে ড্রায়ার সেট করুন। তারপর কান থেকে ১০/১২ ইঞ্চি দূরে রেখে তাপ দিন। কানের পানির সমস্যা দূর হবে।
যদি কিছুতেই কিছু না হয়, অতি সত্বর ডাক্তারের কাছে যান। অনেক সময় ওষুধেরও প্রয়োজন পড়ে কানের পানি বের করতে। তাই এই বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না মোটেও।

Saturday, March 18, 2017



হুট করে মাথাব্যথা শুরু হওয়া বা মাইগ্রেইনের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার মূলে থাকতে পারে জীবনযাপনে কিছু ভুল অভ্যাস। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। জেনে নেয়া যাক তেমনই কিছু ব্যাপার-

# দিনের শুরুতে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন: মাথাব্যথা কমাতে চা বা কফি সহায়ক এমন ধারণা বেশ পুরাতন। কিন্তু ক্যাফেইনের কারণে অ্যাসিডিটিও হতে পারে। তাছাড়া পানি শূণ্যতারও কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ। ফলে মাথাব্যথা কিছুটা সময় কমলেও তা আবার বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই এই অভ্যাস ত্যাগ করা ভালো।

# পানি পান: শরীরের দূষিত পদার্থ দূর করার জন্য পানি অত্যন্ত কার্যকর। মাথাব্যথা উপশমেও পানি বেশ ভালো ফল দেয়। তাই পানিশূণ্যতা এড়াতে প্রতিদিন ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।

# খাদ্যাভ্যাস: যে কোনো খাবারে ‘মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেইট বা এমএসজি’ নামক উপাদানের আধিক্য মাথাব্যথা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার আগে এর পুষ্টি উপাদানগুলো সম্পর্কে জানা থাকা জরুরি।

# ক্ষারযুক্ত খাবার: সবুজসবজি, ফল এবং অন্যান্য ক্ষারযুক্ত খাবার মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক। তাছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণেও এই খাবারগুলো বেশ কার্যকর।

# অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন: চিনি মাইগ্রেইনের বড় শত্রু। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি বাদ দিয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
প্রতিনিয়তই আমরা পেটে গ্যাসের সমস্যায় ভুগি। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাদের যে কোন খাবার থেকেই গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। সারাদিন কাজের চাপে অথবা ঠিকমত খাবার না খাওয়ার কারণেও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

পেটে গ্যাস হওয়া আমাদের হজম প্রক্রিয়ারই একটি অংশ, এটা ছাড়া ঠিকমতো হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। গ্যাস্ট্রিক সমস্যা তখনই হয় যখন এই গ্যাস অতিরিক্ত হারে তৈরি হতে থাকে এবং সময়মতো বের হতে পারেনা। তাছাড়া বুক জ্বালা পোড়া, বমি বমি ভাব, টক ঢেঁকুর উঠাও গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ।

যেহেতু হজম প্রক্রিয়া থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি হয় সেহেতু খাবার থেকেই এই সমস্যার সমাধানও পাওয়া যায়। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

আদা:
প্রত্যেক বেলার প্রধান খাবার গ্রহণের পরে তাজা ছোট এক টুকরা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। অথবা আদা চা খেতে পারেন। কয়েক টুকরা আদা পানির মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে আদা চা তৈরি করা হয়। দিনে ২-৩ বার আদা চা খেলে গ্যাস কমে যায়।

পানি:
প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি পান করলে অনেক সমস্যা থেকেই মুক্তি মিলবে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে পানি। এতে কমে যায় অ্যাসিডিটি।

দারুচিনি:
এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে এক চামচ দারুচিনির গুঁড়া ভালো করে গুলিয়ে পান করুন। সাথে মধুও মেশাতে পারেন। অথবা এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ দারচিনির গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে ২-৩ মিনিট পরে পান করুন।

ঘোল:
ঘোল বা লাবান পান করলে গ্যাস্ট্রিক কমে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ঘোল পান করুন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

রসুন:
রসুনের স্যুপ খেলে গ্যাস্ট্রিক কমে যায় এবং হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। কিছু পরিমাণ রসুন পিষে পানিতে মিশিয়ে কয়েক মিনিট ধরে ফোটান। এর সাথে গোলমরিচ এবং জিরা মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা করুন। ঠাণ্ডা হলে মিশ্রণটি পান করুন। এভাবে দিনে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করতে থাকলে গ্যাস্ট্রিক কমে আসবে।

মৌরি:
চিবিয়ে খেতে পারেন। অথবা গরম পানির মধ্যে কিছু পরিমাণ মৌরি মিশিয়ে ৫ মিনিট ধরে ঠাণ্ডা করুন। ৫ মিনিট পরে পান করুন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা  দূর হয়ে যাবে।

হলুদের পাতা:
হলুদের পাতা কুচি করে কেটে প্রতিদিন দুধের সাথে মিশিয়ে পান করে নিন। এতে করে পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে। ২ কাপ পানিতে পেয়ারা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ১ কাপ পরিমাণে হলে ছেঁকে পান করুন। এতেও বেশ ভালো উপকার হবে।

আনারস:
আনারস খেলে অ্যাসিডিটি কমে যায়।

বেকিং সোডা ও লেবু:
বেকিং সোডা পেটের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে তাৎক্ষণিক রেহাই পেতে সাহায্য করে। একটি গ্লাসে অল্প পরিমাণ তাজা লেবুর রসের মধ্যে কিছু পরিমাণ বেকিং সোডা ঢেলে দিন। মিশ্রণটি জমে গেলে তার উপর পানি এবং আর একটু বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালভাবে গুলিয়ে নিন। আস্তে আস্তে মিশ্রণটি পান করুন। খালি পেটে এক গ্লাস পানির মধ্যে ১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনেকেই সারা বছর শরীরচর্চা করেন। কেউ কেউ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে তারা বেরিয়ে পড়েন মর্নিং ওয়ার্কে। কেউ আবার ট্রাকস্যুট, স্নিকার পরে খানিকটা দৌড়ে নেন।

তবে আচমকা অত্যাধিক শরীরের প্রতি যত্নশীল হয়ে পড়াটা মুশকিল। এক ঝটকায় এতটা যত্ন শরীর মানিয়ে নাও নিতে পারে। এতে আপনি আরও অসুস্থ হতে পারেন। তাই শরীরচর্চার আগেই কিছু কৌশল জেনে রাখা জরুরি। এতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাশাপাশি বিপদের হাত থেকেও বাঁচা যাবে।

দৌড়ানোর সময় শ্বাস নেওয়ার কৌশল সম্পর্কে আগেই জেনে নেয়া যাক।

নাক এবং মুখ:
দৌড়ানোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় নাক এবং মুখ একইসঙ্গে ব্যবহার করুন। নাক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ করে মুখ দিয়ে শ্বাস ত্যাগ করুন। এতে ফুসফুসের উপরে চাপ কম পড়বে।

মধ্যচ্ছদা:
দৌড়নোর সময় শুধু বুকের ছাতিই নয়, আপনার পাকস্থলীও প্রসারিত হওয়া জরুরি। একইভাবে শ্বাস ত্যাগের সময় মধ্যচ্ছদা পর্দা যাতে ঠিকঠাক সংকোচন হয় তাও খেয়াল রাখবেন।

পায়ের ছন্দ:
প্রতি শ্বাস গ্রহণ এবং শ্বাস ত্যাগের সময় লক্ষ্য রাখবেন যাতে দু’বার করে পা মাটিতে পড়ে। দৌড়নোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় পায়ের এই ছন্দ মেলানোটাও কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

অঙ্গভঙ্গি:
মাথা উপরের দিকে রাখুন এবং কাঁধ পিছনের দিকে। এই সময় সঠিক অঙ্গভঙ্গি দেহে প্রয়োজনীয় মাত্রার অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।

অভ্যাস:
সবশেষে মনে রাখবেন। প্রতিদিন দৌড়ানোর আগে এই অভ্যাসগুলো মেনে চলা খুবই উপকারী। দু’দিনের জন্য না করে অভ্যাসটি বজায় রাখুন। এতে আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে। যাদের বয়স ২০ বছর বা তার বেশি, তাদের রক্তে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একবার পরীক্ষা করে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখা উচিত। এ মাত্রা যদি ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হয় কিংবা কম ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরলের (ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল) মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হয়, তাহলে এগুলো রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রায় বিরাজ করে- এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে পরিমাণ কমানো উচিত। সাধারণত জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এর পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় আনা যায়। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা কঠিন কাজ নয়।
কোলেস্টেরলের কাক্সিক্ষত মাত্রা নির্ধারণ : আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত এবং আপনি কতটুকু কমাতে চান। এটা অনেক উপাদানের ওপর নির্ভর করে। যেমন- পরিবারের বা বাবা-মায়ের হৃদরোগের ইতিহাস আছে কিনা এবং আপনার হৃদরোগ হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে কি না, যেমন- উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাস, অতিরিক্ত মেদভুঁড়ি ইত্যাদি। যাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাদের কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল বা ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে থাকা উচিত। যাদের হৃদরোগের কোনো ঝুঁকি উপাদান নেই, তাদের ১৬০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে রাখা যেতে পারে
প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করতে হবে : যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের অবশ্যই জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। যদি হৃদরোগের উপসর্গ থাকে, তাহলে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধূমপান পরিহার করা, ওজন কমানো যেমন জরুরি, তেমনি ওষুধ সেবন করাও দরকার।
জীবনাচরণ পরিবর্তনের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কোলেস্টেরল কমানোর জন্য নানা রকম ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন- নিয়াসিন, ফাইব্রেটস স্টেটিনস ইত্যাদি। স্টেনিটন রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমাতে পারে।
হাঁটুন এবং ব্যায়াম করুন : শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম শুধু রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় না, উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ (বেশি ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল) ১০ শতাংশ বাড়ায়। জোরে জোরে হাঁটলেও এমন উপকার পাওয়া যায়। নৈশভোজের পর কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটুন। কেউ যদি প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করেন, তাহলে উপকৃত হবেন। কেউ যদি অফিসে চাকরি করেন, তার উচিত অন্তত প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিট হাঁটা বা চলাফেরা করা। আপনি যে ধরনের ব্যায়াম করুন না কেন, তা নিয়মিত করতে হবে।
চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন : কোলেস্টেরল কমানোর সহজ উপায় হচ্ছে ডিমের কুসুম এবং অন্যান্য বেশি কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পরিহার করা। তবে শুধু খাবারের কোলেস্টেরলই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য দায়ী নয়। সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- মাখন, চর্বিযুক্ত গরুর মাংস ও খাসির মাংসের পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল, মাছ পর্যাপ্ত খাওয়া উচিত।
আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান : সবজি এবং ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলও কমায়। দ্রবণীয় আঁশ পরিপাক নালি থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। শিম, বার্লিতে প্রচুর আঁশ থাকে।
বেশি মাছ খান : মাছ ও মাছের তেল কোলেস্টেরল হ্রাস কের। এর মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এটি রক্ত থেকে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে ফেলে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাছ খাওয়া উচিত। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। মাছ খেতে অনিচ্ছুকরা মাছের তেল থেকে তৈরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ ক্যাপসুল চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারেন। বিভিন্ন উদ্ভিদজাত খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। যেমন- সয়াবিন তেল, কাঠবাদামের তেল ইত্যাদি।
মদ্যপান পরিহার করুন : অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। মদ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
ধূমপান পরিহার করুন : ধূমপান করলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা বেশি ঘনত্বের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন : অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
লেখক : হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

শরীরে উচ্চমাত্রায় ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি রসুন, আমলকী ও মেথির মতো খাবার কাজে লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আপনার দৈনন্দিন ডায়েট ভালো স্বাস্থ্যের লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চমাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে যেসব খাবার কাজে লাগাতে পারেন, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। চলুন জেনে আসি এসব খাবার সম্পর্কে:

রসুন: রান্নাঘরেই পাবেন রসুন। স্বাস্থ্যকর রসুনের গুণাগুণ অনেকের জানা। রসুনে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ ও অর্গানোসালফার যৌগ। এই যৌগ ঔষধি গুণ হিসেবে কাজ করে। বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে বাজে কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর রসুন। এটি রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর রসুন দৈনিক অর্ধেক বা এক কোয়া করে খেলে কোলস্টেরলের মাত্রা ৯ শতাংশ কমতে দেখা যায়।

গ্রিন টি: গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে আছে পলিফেনল। এটি মানুষের শরীরে দারুণ উপকার দেয়। এটি শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি আমাদের শরীরকে সতেজ ও উৎফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। এটি হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের মেদ কোষে বেশি শর্করা ঢুকতে পারে না। ফলে এই চা আমাদের শরীরের ওজন ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

ধনে: আমাদের দেহে এলডিএল নামক একধরনের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে, যা দেহের শিরা-উপশিরার দেয়ালে জমে হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলে সমস্যা বাড়ায়। এর কারণে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধনে এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। আবার দেহের জন্য ভালো বা উপকারী একধরনের কোলেস্টেরল, এইচডিএলর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে শরীর সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে এই ধনে।

মেথি: মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য—তিনটিই বলা চলে। স্বাদ তিতা ধরনের। এতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি ও তারুণ্য ধরে রাখার বিস্ময়কর এক ক্ষমতা। যাঁরা নিয়মিত মেথি খান, তাঁদের বুড়িয়ে যাওয়ার গতিটা অত্যন্ত ধীর হয়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে। বিশেষত কৃমি মরে। রক্তের চিনির মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা কমে যায়। ডায়াবেটিসের রোগী থেকে শুরু করে হৃদ্‌রোগের রোগী পর্যন্ত সবাইকে তাঁদের খাবারে মেথি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আমলকী: টক আর তেতো স্বাদে ভরা আমলকী গুণে-মানে অতুলনীয়। ফলটি শুধু ভিটামিন আর খনিজ উপাদানেই ভরপুর নয়, বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করায়ও রয়েছে অসাধারণ গুণ। আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি-কাশি ঠেকাতে পারে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও আমলকীর জুসের গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে তা। নিয়মিত আমলকীর জুস খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে।

Wednesday, March 1, 2017

হাত-পা অথবা চোখ ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও রক্ত ছাড়া বাঁচার কথা কল্পনাও করা যায় না। মানবদেহে রক্ত তাই অপরিহার্য। জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় রক্ত পরিসঞ্চালন কখনো কখনো তৈরি করতে পারে জটিলতা।
  • রক্তবাহিত রোগের সংক্রমণ এখনো একটি প্রধান সমস্যা। হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু সহজেই রক্তের মাধ্যমে রক্তগ্রহীতার দেহে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিস্থিতির মূল কারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তটি জীবাণুমুক্ত কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করা। অনুমোদনহীন এসব রক্ত বিক্রি করা হয়। আর তা আসে মূলত নেশাসক্ত পেশাদার রক্তদানকারীদের থেকে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত বা ভেজাল রক্তও এসব ব্লাড ব্যাংক থেকেই আসে।
  • ভুলক্রমে এক গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রোগীদের দিলে রক্ত হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এ ধরনের ঘটনা কম হলেও একেবারেই হয় না, তা নয়। এসব ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহকারী ও পরীক্ষাকারী ব্লাডব্যাংক, চিকিৎসক অথবা নার্স যে কারো ভুল বা অসতর্কতা দায়ী। রোগী সাধারণত বুকে-পিঠে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করে থাকে। চিকিৎসক দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। এ ছাড়া যেকোনো পরিসঞ্চালনেই কাঁপুনি ও জ্বর আসা এবং অ্যালার্জি জাতীয় ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে।
  • যাদের কিছুদিন পরপর রক্ত নিতে হয়, তাদের দেহে লৌহের আধিক্যসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
  • অনেক সময় অধিক রক্ত দ্রুত প্রবেশ করলে বৃদ্ধ অথবা হৃদরোগীর হার্ট ফেইলিউর জাতীয় সমস্যা হতে পারে।
অবশ্য রোগী বা তাঁর আত্মীয়স্বজন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন, রক্ত পরিসঞ্চালনের আগেই যখন দেওয়ার জন্য রক্ত খুঁজতে থাকেন। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ব্লাড গড়ে উঠলেও নিরাপদ রক্ত এখনো দুর্লভ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্ত প্রয়োজন হলে, তা হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। এ ছাড়া যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয়, তাদের বেশিরভাগ সময় যায় রক্তের খোঁজে। দুর্লভ দলের রক্ত হলে তো কথাই নেই।
আমাদের কী করা উচিত
রক্ত যে কারোরই যেকোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে—এ কথা মনে রেখে আমরা যদি এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি, তবে রক্ত পরিসঞ্চালনের সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। আমাদের যেসব উদ্যোগ নিতে হবে তা হলো :
  • নিজের, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা।
  • নিকটস্থ ব্লাড ব্যাংকের ঠিকানা ও ফোন নম্বর জেনে রাখা।
  • শুধু নিবন্ধনকৃত ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান ও গ্রহণ করা।
  • পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না কেনা।
  • নিজে নিয়মিত রক্তদান করা এবং সকলকে উদ্বুদ্ধ করা।
  • রক্তবাহিত রোগে সংক্রমিত হলে রক্তদান না করা।     

Thursday, February 23, 2017

চা একটি অতি সুস্বাদু এবং সতেজকারী পানীয় । চায়ের রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গুন। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায় বাজারে। মূলত ব্ল্যাক টি আর গ্রীন টি ই বাজারে অধিক প্রচলিত। ব্ল্যাক টি এর চাইতে গ্রীন টি শরীরের জন্য অধিক উপকারী। কারণ গ্রীন টি এর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। যেমন গ্রীন টি-তে রয়েছে ভিটামিন-এ, জিঙ্ক, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-বি, এন্টি অক্সিডেন্ট , ভিটামিন-ই, ভিটামিন-সি, বাইওটিন, ভিটামিন-কে, ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে ইত্যাদি।
আজ গ্রীন টি এর এসব পুষ্টিগুণের ফলে আমাদের শরীরে কি কি উপকার সাধিত হয় সে সম্পর্কে জানব।
১। আথেরোসেক্লরোসিস এর ঝুঁকি কমায়ঃ
আথেরোসেক্লরোসিস এক ধরনের রোগ যা ধমনী বা শিরার ভেতরে প্লাক তৈরি করে রক্ত চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে । ধমনীর মাধ্যমেই হৃদপিণ্ড এবং শরীরের অন্যান্য অংগ প্রত্যঙ্গে রক্ত প্রবাহিত হয়। সুতরাং ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হলে তা আমাদের শরীর এবং হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর।
এক্ষেত্রে গ্রীন টি এর ভেতরে বিদ্যমান ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে নামক উপাদানটি ধমনী বা শিরাতে এই প্লাক প্রতিরোধ করে আথেরোসেক্লরোসিস নামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
২। কোলেস্টোরেল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেঃ
গ্রীন টি শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে আনে । গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে ১০ কাপ গ্রীন টি পান করলে তা তাৎপর্যপূর্ণভাবে ক্ষতিকর কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।
৩। ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ
গ্রীন টি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যেমনঃ স্তন ক্যান্সার, যকৃতের ক্যান্সার, মূত্রথলির ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার,ত্বকের ক্যান্সার এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার।
তবে এমন কোন গবেষণা করা হয়নি যে ঠিক কত পরিমাণে গ্রীন টি পান করলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব কিন্তু তারা গ্রীন টি- তে ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে নামক উপাদান খুঁজে পেয়েছে যা খুব কার্যকরী ক্যামো প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ক্যামো প্রতিরোধক উপাদানটি ক্যান্সার ধরা পড়ার আগেই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষগুলোর সাথে লড়াই করে এবং ক্যামো থেরাপির মতই এটি শরীরে ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে থাকে।
৪। উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেঃ
গ্রীন টি আমাদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে সহায়তা করে কারন এর মধ্যে কিছু পরিমাণে ক্যাফেইন আছে। তবে এটা মনে রাখা জরুরী যে, গ্রীন টি-তে খুব অল্প পরিমাণে ক্যাফেইন আছে তাই কেউ যদি কফি পান করে অভ্যস্ত হয় তবে তার নিজের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করার জন্য বেশ কয়েক কাপ গ্রীন টি পান করতে হবে।
৬। গ্রীন টি কারডিওভাস্কুলার এর স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করেঃ
গ্রীন টি বিভিন্নভাবে হৃদপিণ্ডকে ভাল রাখতে সহায়তা করে। এর মধ্যে একটি হল গ্রীন টি কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে কারডিওভাস্কুলার প্রক্রিয়াকে ভাল রাখতে সহায়তা করে।
৭। ত্বক প্রানবন্ত এবং সুস্থ রাখতে সহায়তা করেঃ
গ্রীন টি এর মধ্যে বায়োটিন নামক এক ধরনের ভিটামিন খুঁজে পাওয়া গেছে যা ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাছাড়াও গ্রীন টি এর মধ্যে যে এন্টি অক্সিডেন্ট আছে তা ত্বকে বয়সজনিত ছাপ প্রতিরোধ করে এবং সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি এর ফলে ত্বকের ক্ষতি হওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
৮। দাঁতের ক্ষয়রোধ করে এবং মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করেঃ
গ্রীন টি বিভিন্নভাবে আমাদের মুখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করে। যেমনঃ গ্রীন টি আমাদের লালার মধ্যের অম্লতার পরিমাণ কমিয়ে আনে এবং এর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক উপাদান আমাদের মুখের ভেতরের অংশকে পরিষ্কার এবং সুস্থ রাখতে সহায়তা করে যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় না।
৯। বিষণ্ণতা প্রতিরোধে সহায়তা করেঃ
গ্রীন টি এর মধ্যের এমিনো এসিড এল- হিনিং শরীরে এক ধরনের শান্ত এবং প্রশান্তি অনুভূতি উৎপাদন করতে সক্ষম। তাই এটি একটি প্রাকৃতিক বিষণ্ণতা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
গ্রীন টি এর আরও অনেক উপকারীতা রয়েছে। তার কিছু মাত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু গ্রীন টি উপকারী বলেই যে একসাথে অনেক পরিমাণে পান করলেই এসব উপকারীতা দ্রুত পাওয়া যাবে তেমন নয়। প্রতিনিয়ত পান করলে ধীরে ধীরে এসব সুফল পাওয়া সম্ভব। তবে অবশ্যই এটা মাথায় রাখতে হবে যে, মাত্রাতিরিক্ত যেকোন জিনিসই ক্ষতিকর। তাই গ্রীন টি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও দিনে ১০ কাপের বেশী গ্রীন টি পান করা উচিত নয় কারণ দিনে ১০ কাপের চাইতে বেশী গ্রীন টি পান করলে তা যকৃতের ক্ষতির কারণ হয়।

Tuesday, February 21, 2017

ঘুম প্রাকৃতিক নিরাময়কারী। তাই সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন। স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা ঔষধের কারণে হতে পারে নিদ্রাহীনতা। ঘুম না আসার সবচেয়ে বড় অপরাধী হচ্ছে উদ্বিগ্নতা। ডেনভারের ন্যাশনাল জিউইস হেলথ এর পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের এডুকেশন স্কলার লিসা মেল্টজার বলেন, “আপনি যদি উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত থাকেন তাহলে শিথিল হওয়া ও ঘুমানো খুবই কঠিন”। তিনি আরও বলেন, “আপনার যদি ঠিক ভাবে ঘুম না হয় তাহলে আপনার উদ্বিগ্নতাও বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও কঠিন হবে”। বিছানায় শোয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়তে চান আপনি? তাহলে জেনে নিন কিছু টিপস।
১। নিয়মিত ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন ব্যায়াম করাটাকে আপনার জীবনের একটি নিয়ম হিসেবে মেনে নিন। প্রতিদিনই শরীরচর্চা করুন। লিফট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। সব জায়গায় হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
২। ঘুমানোর আগে ইতিবাচক কথা ভাবুন
ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথা থেকে নেতিবাচক সকল চিন্তা দূর করে দিন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার সকল দুশ্চিন্তাকে দূরে সরিয়ে ইতিবাচক ও সুখকর ঘটনা মনে করার চেষ্টা করুন।
৩। ৩ টি ভালো ঘটনার কথা মনে করুন
দিনের শেষে ঘুমানোর আগে সারা দিনের ৩টি ভালো ঘটনার কথা মনে করুন। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ভালো ও মন্দ ঘটনা ঘটে থাকে মানুষের জীবনে। যা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি এবং সুখকর মুহূর্তও পাই। ভালো মুহূর্তটির কথাই মনে করুন এবং আপনি কতটা ভাগ্যবান তা উপলব্ধি করুন।
৪। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান
প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ছুটির দিনে হয়তো এর ব্যাতিক্রম হতে পারে, কিন্তু সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতেও তা অনুসরণ করুন। কাজের চাপে হয়তো এটা করাটা বেশ কঠিন হবে কিন্তু চেষ্টা করুন সকালে উঠতে। কাজের জন্য দেরিতে না ঘুমিয়ে সকালে তাড়াতাড়ি উঠে কাজ শুরু করাটাই সবচেয়ে ভালো।
৫। বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ুন
রাতে যদি ঘুম না আসে বা কিছুক্ষণ পর ঘুম ভেঙ্গে যায় তাহলে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ুন। বিছানায় শুয়ে থাকলে ঘুম আসবে না। তাই হাত ও মাথা খাটাতে হয় এমন কোন কাজ করুন। তবে টিভি দেখা বা ডিজিটাল স্ক্রিনে কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।
৬। শোয়ার ঘর ঠান্ডা রাখুন
আপনার বেডরুমের তাপমাত্রা যাতে ঠান্ডা থাকে সেদিকে নজর দিন। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমে ঘুম আসেনা। ঠান্ডা, অন্ধকার ও আরামদায়ক ঘরে ঘুম আসে তাড়াতাড়ি। মেল্টজার বলেন, অন্ধকার মস্তিককে সংকেত পাঠায় মেলাটোনিন তৈরির জন্য, যা আপনার দেহ ঘড়িকে বলে – এখন ঘুমানোর সময়। মেলাটোনিন আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমায়। রাত ২ টা থেকে ৪ টার মধ্যে দেহের তাপমাত্রা সবচেয়ে কমে যায়।
৭। গোসল করুন
রাতে ঘুমানোর আগে যদি গোসল করা হয় তাহলে ভালো ঘুম হয়। এছাড়াও মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে পারেন।
৮। ৪-৭-৮ পদ্ধতি
লেখক ড. এন্ড্রু ওয়েল এই পদ্ধতিটির কথা বলেন। ঘড়ি দেখে ৪ মিনিট যাবৎ শ্বাস নিন, ৭ মিনিট শ্বাস ধরে রাখুন এবং ৮ মিনিট ধরে নিঃশ্বাস ছাড়ুন। ৩ বার এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন। দেখবেন খুব সহজেই ঘুম চলে আসবে।
পেঁপে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট একটি ফল। এটি পাকা এবং কাঁচা দুইভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা পেঁপে তরকারি হিসেবে রান্না করে কিংবা সালাদ বানিয়ে খাওয়া যায়। দেশি ফলগুলোর মধ্যে পেঁপে বেশ জনপ্রিয়। সারা বছরই এর দেখা মেলে। দাম তুলনামূলক সহজলভ্য হওয়ায় এর চাহিদাও প্রচুর। পেঁপের রয়েছে বেশকিছু পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।
ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম থাকায় যারা মেদ সমস্যায় ভুগছেন তারা পেঁপে খেতে পারেন অনায়াসে। যাদের পেটে গোলমাল দেখা দেয়, তারা পেঁপে খেতে পারেন। পেঁপে মিষ্টি হলেও ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন।
নিয়মিত পেঁপে খেলে হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যা যেমন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যাদের কানে ঘন ঘন ইনফেকশন হয় তারা পেঁপে খেয়ে দেখতে পারেন, উপকার পাবেন।
এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি আছে। চোখের সমস্যা বা সর্দিকাশির সমস্যা থাকলে পেঁপে খেতে পারেন, কাজে দেবে।
পেঁপেতে আছে পটাশিয়াম। তাই এই ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাইপারটেনশন কমায় অনেকখানি। শরীরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় পেঁপে।
পেঁপে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল, তাই ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, ডিপথেরিয়া, আন্ত্রিক ও পাকস্থলীর সমস্যা সারাতে সাহায্য করে।
যারা হজমের সমস্যায় ভোগেন তারা পেঁপে খেলে উপকার পাবেন। এই ফলে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই।
ক্যান্সার প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে কাঁচা পেঁপের পেপেইন ব্যবহার করা হয়। পেঁপের আঠা ও বীজ ক্রিমি নাশক ও প্লীহা, যকৃতের জন্য উপকারী।

Monday, February 20, 2017

শরীরের একটি গুরুতর রোগের নাম হলো বুক ব্যথা। বুকে ব্যথা বলতে কাঁধ এবং পাঁজরের নিচ পর্যন্ত অংশের ব্যথাকে বোঝায়। অনেক সময় হৃদয় জনিত সমস্যার ইঙ্গিত দেয় বুক ব্যথা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুক ব্যথার  কারণ তদন্ত বা পরীক্ষা করা ছাড়া নির্ণয় করা সম্ভব না।

বুক ব্যথার সাধারণ কারণ হলো এসিডিটি। এছাড়া হৃদরোগ, বা ফুসফুসের সমস্যা থেকেও বুকে ব্যথা হয়।

বুকের মাঝখানে, ডান বা বাম দিকে যদি ব্যথা শুরু হয়, এরসঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, ঘাড়ে ব্যথা এবং বমি ভাব অনুভূতি হয়, দেরি না করে অবিলম্বে ডাক্তারি পরামর্শ নিন। নইলে কিন্তু বিপদ! তাই আমাদের বুক ব্যথার কারণগুলো জানা প্রয়োজন।

বুক ব্যথার কয়েকটি কারণ নিম্নে আলোচনা করা হলো :

চিন্তা : অতিরিক্ত চিন্তা থেকেও বুকে ব্যথা হতে পারে। যখন ধমনীতে রক্তচাপের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ফুসফুসে রক্ত বহন করে। এ কারণে বুক ব্যথার হতে পারে।

এনজিনা : গবেষকরা জানান, হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বুকে এক ধরনের ব্যথা অনুভূত হয়, যাকে এনজিনা বলা হয়। যে কোনো ব্যক্তি এনজিনাতে ভুগতে পারে, স্বল্প বা দীর্ঘ সময়ের জন্য এবং তা নির্ভর করে তার হৃদরোগের ধরনের ওপর। এই ক্ষেত্রে, বুকের ব্যথা কাঁধ অঞ্চলে অনুভূত হয় এবং এই ব্যথা হাত ও পা পর্যন্ত ছড়াতে পারে।

অম্লতা : গ্যাস্ট্রোফাগিয়েল রিফ্লাক্স ডিজিজ থেকেও বুক ব্যথা হতে পারে। অম্লতা বা বুকে জ্বালা ব্যথার একটি সাধারণ কারণ, এর সঙ্গে বারবার ঢেঁকুর তোলা, বুক ভার ও কাঁধ অঞ্চলেও ব্যথা অনুভব হতে পারে।

ফুসফুসের সমস্যা : ফুসফুসের সমস্যায় বুকে ব্যথা হতে পারে। পালমোনারি এম্বোলিজম একটি ফুসফুসের ব্যাধি। যেখানে ফুসফুসের ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধে, ফুসফুসের টিস্যুতে রক্ত প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করে এবং এইভাবে বুকের ব্যথা ঘটায়।

অতিরিক্ত চাপ : শরীর যখন চাপের মধ্যে থাকে, তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ দ্রুত হয়। এভাবে সংবহনতন্ত্র প্রভাবিত করে, ফলে বুকে ব্যথা হয়ে থাকে।

বিষণ্নতা : আপনি যখন বিষণ্নতায় থাকেন তখন হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হয়। যার ফলে হঠাৎ বুক ব্যথা  শুরু হয়।

অতিরিক্ত পরিশ্রম : শরীর যখন বিপাকীয় প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, পেশী এবং অঙ্গের ওপর পরিশ্রমের প্রতিফলন ঘটে। এই পরিশ্রম বুকের অঞ্চলে প্রভাব ফেলে বুকের ব্যথার কারণ হয়ে ওঠে।

ইনজুরি : পাঁজরে, পেশী বা বক্ষ প্রাচীরে আঘাত লাগলেও বুকে ব্যথা হয়ে পারে। এ ধরনের বুকে ব্যথা সাধারণত স্থির হয়ে থাকে যা ওষুধের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও পুরুষের খাবারের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়টা ভালো করে জেনে নেয়াসহ পুরুষদের খাবারের ব্যাপারেও বিশেষ নজর দেয়া উচিত।

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য কিছু উপকারী ও জরুরি খাবার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো :

দানাদার শস্য : গবেষণায় দেখা গেছে, দানাদার শস্য জাতীয় খাবার পুরুষের ফোলেট বীর্যকে স্বাস্থ্যবান করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এ শস্যে উচ্চমাত্রার খনিজ ও প্রোটিন ও  ভিটামিন বি  রয়েছে, যা আপনার শরীরের বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে।

টমেটো :  টমেটোতে লাইসোপিন আছে যা পুরুষদের জন্য উপকারী। এই সুপার ফুড টমেটো খেলে তাদের শরীরের  ক্যান্সার , হৃদরোগ  ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমে যায়।

ঝিনুক : ঝিনুকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দস্তা যা সাস্থ্যবান বীর্য উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

রসুন : গবেষকদের মতে, রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে দেয় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও রাখে।

স্যামন মাছ : এ মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফেটি এসিড যা আমাদের হৃদরোগ, রক্তচাপ ও কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

ফুলকপি : এতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী রাসয়নিক সালফোরাফেন।এটি পুরুষের প্রোস্টেট কমাতে সাহায্য করে।

ডিম : ডিমে রয়েছে অতি মাত্রায় লৌহ ও প্লোটিন।এটি চুল পড়া কমাতেও সাহায্য করে থাকে।

ব্লুবেরি :  ব্লুবেরি টাইপ-২ ডায়বেটিস কমাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় এটি হৃদরোগেরও ঝুঁকি কমায়।

ডালিমের রস : সুস্বাদু সব ফলগুলোর মধ্যে ডালিম পুরুষদের জন্য একটি উপকারী ফল। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডালিমের রস পানে পুরুষের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
- See more at: http://www.sylheterkantho24.com/news/details/Life_Style/33379#sthash.ZVsksb7D.dpuf
দম্পতিদের ক্ষেত্রে ব্লাড গ্রুপের হেরফেরের জন্য বেশ কিছু অসুবিধা হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্লাড গ্রুপ A, B, AB এবং O-এর ভিন্নতার জন্য কোনো অসুবিধা হয় না। সমস্যা শুধু পজিটিভ এবং নেগেটিভ নিয়ে অর্থাৎ Rh ফ্যাক্টরের ভিন্নতা নিয়ে। এমনকি A, B, AB এবং O-এর ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী একই গ্রুপের হওয়া সত্ত্বেও একজন পজিটিভ এবং অন্যজন নেগেটিভ হলে তাদের সন্তানের জন্য তা মারাত্মক। এ ক্ষেত্রে অবশ্য মায়ের রক্তের গ্রুপই প্রধানত দায়ী।
এক নারী যার ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ, সে যদি এমন এক পুরুষকে বিয়ে করে যার ব্লাড গ্রুপ পজিটিভ তাহলে এই দম্পতির ক্ষেত্রে স্ত্রীর গর্ভে যে সন্তান লালিত হবে তার ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ অথবা নেগেটিভ দুই-ই হতে পারে। সন্তানের ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হলে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু সন্তান পজিটিভ হলেই এই মারাত্মক দিকে সন্তান এগিয়ে যায়।

এক পুরুষ যিনি Rh পজিটিভ অথবা নেগেটিভ তিনি কিন্তু যেকোনো পজিটিভ গ্রুপের মহিলার গর্ভে সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম। কিন্তু একজন নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের মহিলা কেবল নেগেটিভ গ্রুপের পুরুষের মাধ্যমেই সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারেন। নেগেটিভ গ্রুপের মহিলা পজিটিভ গ্রুপের স্বামীর ঔরসে যে সন্তান ধারণ করবেন জরায়ুতে বর্ধিত তার পজিটিভ রক্ত মায়ের নেগেটিভ রক্তের সাথে মিশে যায়। ফলে মায়ের রক্তে Rh অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয় তা আবার শিশুর রক্তে প্রবেশ করে এবং শিশুর রক্তে অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি রিঅ্যাকশন ঘটে, রক্ত জমাট বেঁধে যায়, রক্তের লোহিত কণিকা ভেঙে যায়, বাচ্চা রক্তস্বল্পতায় ভোগে এবং জন্ডিস দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থায় অথবা নবজাতক সন্তানের এই মারাত্মক রোগকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস।’ সাধারণত দম্পতির প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে উৎপন্ন অ্যান্টিবডির পরিমাণ খুব কম থাকার কারণে এই রোগের কোনো লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ এবং তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সন্তান এই রোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তী প্রতি গর্ভধারণে এই হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
প্রশ্ন আসে, এ রোগের কি চিকিৎসা নেই? চিকিৎসা নেই তা নয়। তবে প্রতিরোধই সবচেয়ে উত্তম। জন্মের পরপরই নবজাতকের পজিটিভ রক্ত সরিয়ে নেগেটিভ রক্ত প্রতি স্থাপন করে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। তাই গর্ভকালীন চেকআপে মায়ের রক্তে Rh অ্যান্টিবডি পাওয়া গেলে অথবা নবজাতক যদি জন্ডিসে আক্রান্ত হয় বা হাত-পা শক্ত হতে থাকে তবে শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কিন্তু একটা জিনিস ভাবুন, নবজাতকের জন্য এই মারাত্মক রোগটি ইচ্ছা করলেই কিন্তু প্রতিরোধ করা যায়। বিয়ের আগে ব্লাড গ্রুপ জেনে নিয়ে প্রথমেই এ সমস্যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।
ডা: ওয়ানাইজা রহমান
- See more at: http://www.sylheterkantho24.com/news/details/Life_Style/32941#sthash.36r5B6OE.dpuf

Saturday, February 18, 2017

বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন। কারণ পানি মানব জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কাজ ঠিক ভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য পানি প্রয়োজন। জাপানিরা সকালে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করার আধা ঘণ্টা পরে নাস্তা খায়। তাদের এই রীতি বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমাণ করেছে যে বিভিন্ন ধরণের দৈহিক সমস্যার জন্য খালি পেটে পানি পান খুবই উপকারী। খালি পেটে পানি খাওয়ার কিছু বিস্ময়কর উপকারিতা সম্পর্কে এই ফিচারে আমরা জানবো।
বিপাকের উন্নতি ঘটায়
খালি পেটে পানি পান করলে বিপাকের হার ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বিপাকের হার বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ পরিপাক প্রক্রিয়ার ও উন্নতি হওয়া। আপনার পরিপাক যদি দ্রুত হয় তাহলে ডায়েট রুটিন অনুসরণ করাও সহজ হবে। ঘুম থেকে জেগেই পানি পান করলে কোলন পরিষ্কার হয় এবং শরীরের জন্য পুষ্টি উপাদান শোষণ করা সহজ হয়।
দেহকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে
পানি পান করলে শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন সহজ ভাবে সম্পন্ন হয়। রাতের বেলায় শরীর নিজেই নিজের মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে একত্র করে। সকালে যখন খালি পেটে পানি পান করা হয় তখন এই বিষাক্ত উপাদানগুলো শরীর থেকে বের করে দেয়। এছাড়াও পর্যাপ্ত পানি পান করলে পেশীর কোষের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং নতুন রক্ত কোষ উৎপন্ন হয়।
বদহজম উপশম করে
পাকস্থলীর এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বদহজম হয়। অন্যনালীতে এসিড রিফ্লাক্স হলে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভোগে। খালি পেটে পানি পান করলে এসিড নীচের দিকে চলে যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
সকালে খালি পেটে পানি পান করলে বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায় এবং পরিপাক তন্ত্রের ও উন্নতি ঘটে। পানি পান করলে পেট ভরার অনুভূতি পায় এবং ক্ষুধা কমে। এভাবেই বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন বৃদ্ধি প্রতিহত হয়।
চুলকে চকচকে, মসৃণ এবং স্বাস্থ্যবান করতে
ডিহাইড্রেশন চুলের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পানি ভেতর থেকে চুলকে পুষ্টি সরবরাহ করে। অপর্যাপ্ত পানি পান করলে চুল পাতলা হয়ে যায় এবং চুলের আগা ফেটে যায়। প্রতিদিন খালি পেটে পানি পান করলে চুলের মান উন্নত হয়।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে
পানি শূন্যতার ফলে ত্বকে অকালেই বলিরেখার ছাপ পড়ে এবং ত্বকের ছিদ্রগুলো গভীর হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, খালি পেটে ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করলে ত্বকে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়।
ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে
খালি পেটে পানি পান করলে লিম্ফেটিক সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। যা ইমিউনিটির মাত্রা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম বিভিন্ন ধরণের রোগ থেকে রক্ষা করে এবং প্রায়ই অসুস্থ হওয়া প্রতিরোধ করে।
কিডনির পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে
ঘুম থেকে জেগেই পানি পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়া এবং মূত্রথলির ইনফেকশন হওয়া প্রতিরোধ করে। খালি পেটে পানি পান করলে পাকস্থলীর এসিড পাতলা হতে সাহায্য করে। এই এসিড কিডনির পাথর সৃষ্টির জন্য দায়ী। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে টক্সিনের দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন ধরণের ব্লাডার ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
Powered by Blogger.

Contact us

Name

Email *

Message *

Followers

Featured Posts

Social Icons

Pages

Facebook

Video

সর্বাধিক পঠিত

Our Facebook Page

Text Widget