Showing posts with label শিশুস্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label শিশুস্বাস্থ্য. Show all posts

Saturday, April 8, 2017

গ্রীষ্মের দাবদাহে সব বয়সী মানুষের প্রাণই ওষ্ঠাগত প্রায়। তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় শিশুরা। এই গরমে তাদের যত্ন নিতে হবে। তাহলেই শিশুরা থাকবে সুস্থ এবং প্রাণবন্ত। তাই জেনে নিন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ও পরামর্শ:
—একটি শিশুর শরীরে গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লিটার পানি প্রয়োজন হয়। শিশুরা ঘামে বেশি, তাই প্রচুর পরিমাণ পানি পান করাতে হবে। মৌসুমি ফলের মধ্যে তরমুজ, আনারস, আম, কাঁঠাল, লিচু, আঙুর, বাঙ্গি, আপেল খাওয়াতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শিশুর পছন্দকে গুরুত্ব দিন। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা কোমল পানীয় বা কৃত্রিম জুস পান করাবেন না। এগুলো শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
—এ মৌসুমে শিশুরা ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে, যা পাঁচ-সাত দিন স্থায়ী হয়। অনেক সময় বোঝা যায় না, শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত কি না। জ্বর ১০০ ডিগ্রি হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে পারেন। শিশুকে ভারী কাপড়ে না ঢেকে বরং পাতলা জামাকাপড় পরাবেন। ঘরের ফ্যান চালিয়ে রাখুন।
—গরমে শিশুদের চুলের গোড়া ঘেমে যায়। তাই চুল যতটা সম্ভব ছোট রাখাই ভালো। এতে চুলের গোড়া ঘেমে গেলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। যেসব শিশুর ঠান্ডার সমস্যা আছে, তাদের চুল কখনোই বড় রাখা উচিত না। গোসলের পর চুল ভালোভাবে মুছে দিন। বড় ফাঁকওয়ালা চিরুনি দিয়ে চুল ঠিকভাবে আঁচড়ানো উচিত। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে তা ভালোভাবে বেঁধে দিন। রোদ থেকে ঘরে ফিরেই সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে গোসল করানো থেকে বিরত থাকুন।
—গ্রীষ্মকালে শিশুকে প্রতিদিনই গোসল করাতে হবে। ঠান্ডা বা সর্দি-কাশির ভয়ে অনেকে সন্তানকে গোসল করাতে চান না। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে শরীরের ঘাম জমে গিয়ে আরও অসুখ-বিসুখের শঙ্কা থাকে। গোসলের সময় শিশুর গায়ে সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তবে শ্যাম্পু বেশি ব্যবহার না করাই ভালো, সপ্তাহে দুদিনই যথেষ্ট। গোসলের পর শিশুর শরীর ও মাথা ভালো করে মুছে দিয়ে পাউডার লাগানো ভালো। এতে করে ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে শিশু থাকবে নিরাপদ। শিশুর ব্যবহৃত প্রসাধন সামগ্রী যেন অবশ্যই ভালো মানের হয়।
—ঘামাচির যন্ত্রণা বেশি হলে শিশুকে হিস্টাসিন বা অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ দিন। এতেও চুলকানি না কমলে হাইড্রোকর্টিসন (১%) মলম দিনে ২ বার করে ৫ থেকে ৭ দিন লাগাতে হবে। গরমের সময় লোশন ব্যবহার মোটেও ঠিক নয়। এতে বাচ্চার শরীরে ঘাম জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
—গরমে শিশুদের অবশ্যই নরম ও পাতলা সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা পোশাক পরাতে হবে। কেননা, শিশুরা ঘামে বেশি। ঢিলেঢালা পোশাকে বাতাস ঢুকতে পারে, এতে সহজেই ঘাম শুকিয়ে যায়। এ ছাড়া থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরালে আরাম পাবে।
—গ্রীষ্ম ও বর্ষায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব যায় বেড়ে। তাই সাবধান। খাওয়ানোর আগে শিশুর ব্যবহৃত বাটি, প্লেট সেদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। খাবার পানি ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। খাবার তৈরি ও পরিবেশনের আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।

Sunday, March 19, 2017

আপনার সন্তান হয়তো সব রকম খাবার খেতে চায় না। কিন্তু ব্রেনের সঠিক বিকাশের জন্য কয়েকটা খাবার‚ যার মধ্যে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি পরিমাণে থাকে তা রোজকার ডায়েটে থাকা খুব জরুরি। তাই বাচ্চাকে যদি অন্যদের থেকে স্মার্ট আর বুদ্ধিমান করে তুলতে চান তাহলে অবশ্যই নিচের এই দশটা খাবার খাওয়াতে হবে।

আপেল:
বাচ্চা হোক বা বুড়ো ফল সবার জন্যেই ভালো। সবরকমের ফলই বাচ্চাদের উপকারে আসবে। কিন্তু আপেলে এক ধরণের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যার নাম Quercetin। এটা ব্রেনের বিকাশের জন্য খুব ভালো। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে বাচ্চারা রোজ একটা করে আপেল খেয়েছে তাদের মনঃসংযোগ অন্যদের থেকে অনেক বেশি|

ডিম:
ডিমের কোনো জুড়ি হয় না। এটা শুধুনাত্র বাচ্চার ব্রেনের বিকাশ ঘটায় তাই নয়‚ সারা শরীর হেলদি রাখে। এছাড়াও নিয়মিত ডিম খেলে স্মৃতি শক্তিও বাড়ে। বেশির ভাগ বাচ্চাই ডিম খেতে ভালোবাসে। তাছাড়াও ডিমের এত রকমের প্রিপারেশন হয় যে রোজ ডিম সেদ্ধ বা ডিমের পোচ না দিলেও চলবে।

মাছ:
মাছে ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা বাচ্চাদের ব্রেনের বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরী। এছাড়াও মেমরি লস হতে দেয় না।

দই:
দইয়ের মধ্যে ক্যালাসিয়াম আর প্রোটিন পাওয়া যায় যা বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য খুব জরুরী। এছাড়াও দইয়ের মধ্যে প্রোবায়োটিকস আছে যা ব্রেনের বিকাশের সাহায্য করে। এছাড়াও দেখা গেছে দই খেলে বাচ্চার মুডেরও পরিবর্তম ঘটে।

ওটমিল:
এত দিনে নিশ্চই জেনে গেছেন চিনি দেওয়া কর্ণফ্ল্যেক্স বা অন্য কোনো মিষ্টি মেশানো ব্রেকফাস্ট খাওয়া কতটা ক্ষতিকারক। তাই সকালে এইসব না দিয়ে বাচ্চাকে ওটস খাওয়ান। ওটস শরীর থেকে ব্যাড কোলেস্ট্রোল শুষে নেয় ফলে বাচ্চার ব্রেনের আর্টারী পরিষ্কার থাকে। এর ফলে বাচ্চার স্মৃতিশক্তি বাড়ে। বাচ্চা ওটস খেতে না চাইলে তাতে কাজু‚ কিসমিশ‚ স্ট্রবেরি‚ চেরি মিশিয়ে দিন।

অলিভ অয়েল:
অলিভ অয়েলে ম্যনো স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা বাচ্চা বা বুড়ো সবার সুস্বাস্থ্যের জন্যেই দরকারী। তাই রেগুলার তেলের বদলে অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করার চেষ্টা করুন। অবশ্য ভাজাপোড়া যতটা কম খাওয়াবেন তত ভালো। কারণ অলিভ অয়েলেই ভাজুন বা এমনি তেলে‚ ভাজাভুজি সব সময়ই শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

আমন্ড:
ফ্যাটি অ্যাসিড ছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায় যা ড্যামেজড ব্রেন সেল রিপেয়ার করে। এছাড়াও স্মৃতি শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে আমন্ড বাদাম। এমনি না খেতে চাইলে আমন্ড বাদাম দিয়ে মিল্ক শেক বানিয়ে দিন বাচ্চাকে।

গ্রিন লিফি ভেজিটেবিলস:
গ্রিন লিফি ভেজিটেবল যেমন পালং শাকে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা ব্রেনের বিকাশ ঘটায়। এছাড়াও বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে পালং শাক।

অ্যাভোকার্ডো:
আমাদের শরীরে যা দরকার হয় মোটামুটি সবই এই ফলে পাওয়া যায়। উপরন্তু এতে গুড ফ্যাট আছে যা বাচ্চার ব্রেনকে ডেভেলপ করতে সাহায্য করে। তবে বাচ্চাদের এর টেস্ট হয়তো ভালো নাও লাগতে পারে। তাই এর স্যান্ডউইচ বানিয়ে দিন। বা চিপসের সঙ্গেও খাওয়াতে পারেন অ্যাভোকার্ডো দিয়ে।

আখরোট:
আমরা ছোটবেলায় অনেকেই ভাবতাম এটা মাথার ঘিলুর মতো দেখতে তাই এটা মাথার জন্য ভালো। সেই ভাবনায় কিন্তু কোনো ভুল ছিল না। আখরোটে ওমেগা ৩ পাওয়া যায়‚ যা হলো গিয়ে আল্টিমেট ব্রেন বুস্টার। এছাড়াও এতে ভিটামিন E আছে যা ব্রেন সতেজ রাখে।

Wednesday, March 1, 2017

আপনি লক্ষ করলেন, আপনার শিশুটি বেশ কিছুদিন ধরেই কান চুলকানোর চেষ্টা করছে। এর আগে ওর মা কটনবাড দিয়ে কান পরিষ্কার করে দিয়েছেন; কিন্তু তাতেও উপশম হয়নি। শিশুর কানের ব্যাপারে আপনারা খুবই যত্নশীল, তাই নিয়মিত শিশুর কান পরিষ্কার করেন। কিন্তু তার পরও শিশুর কান চুলকানো সারছে না। ইদানীং শিশুর কান চুলকানোর প্রবণতা বেশ বেড়েছে, কানে ব্যথাও হচ্ছে সঙ্গে। দু-একদিন হলো কানব্যথাটা বেশ বেড়েছে, সঙ্গে কান দিয়ে পানির মতো কষ ঝরছে। অবস্থা ক্রমে খারাপের দিকেই যাচ্ছে।
একই রকম ঘটনা দেখা দিতে পারে বড়দের ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত কান পরিষ্কারের নামে পরম আয়েশে কানে কটনবাড দিয়ে কান থেকে যাবতীয় ময়লা বের করে আনার চেষ্টা চালাতে থাকেন।
এ দৃশ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষয়টি হচ্ছে অটোমাইকোসিস কিংবা অটোমাইকোসিস উইথ ওটাইটিস এক্সটারনা। অটোমাইকোসিস কথার অর্থ হচ্ছে কানে ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। আর অটোমাইকোসিস উইথ ওটাইটিস এক্সট্রারনার অর্থ হচ্ছে কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণের সঙ্গে বহিঃকর্ণের ত্বকে প্রদাহ।
কানের বাড়তি যত্ন নিতে গিয়ে অনেক অভিভাবকই নিজে এবং শিশুর কান পরিষ্কার করে থাকেন। যদিও স্বাভাবিকভাবে কান পরিষ্কার করার কোনো দরকারই নেই। তার পরও অভিভাবকরা এই কাজ করে থাকেন। এতে কানে দেখা দেয় নানা ধরনের সংক্রমণ। এই সংক্রমণের অধিকাংশই হয়ে থাকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস সংক্রমণের কারণে। একই সঙ্গে দেখা যায় প্রদাহজনিত ইনফেকশন। আর এসব ইনফেকশন হয়ে থাকে প্রদাহজনিত বহিঃকর্ণের সরু নালিপথে।
এবার দেখা যাক, কীভাবে কানে এ ধরনের সংক্রমণের সূত্রপাত হয়
কানে কটনবাডসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ব্যবহারের কারণে বহিঃকর্ণের মধ্যে দেখা দেয় ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। কানের এই ফাঙ্গাস দেখতে ভেজা পেপারের মতো। আরেক ধরনের ফাঙ্গাস দেখতে ছাই রঙের ময়লা কাদার মতো, ফাঙ্গাস সংক্রমণের শুরুতে বহিঃকর্ণের পথে চুলকাতে শুরু করে। কান চুলকানোর এই ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণের প্রকোপ বাড়তে থাকার কারণে একপর্যায়ে বহিঃকর্ণের পথে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি আরো নাজুক করে তোলে। এ পরিস্থিতিতে কানের ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। আগেই বলা হয়েছে, কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণের বিষয়টিকে অটোমাইকোসিস বলা হয়ে থাকে। অবস্থা জটিল হলে অটোমাইকোসিসের সঙ্গে বহিঃকর্ণের পথে ইনফেকশন থাকে। এ অবস্থায় কানে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কান দিয়ে কষের মতো ঝড়ে এবং কানে বন্ধভাব দেখা দেয়। কানের ফাঙ্গাস পরিষ্কার করে সেখানে অ্যান্টিফাঙ্গাল বা ফাঙ্গাস নিরাময়ের মলম ব্যবহার করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকও গ্রহণ করতে হয়।
অনেক সময় কান পরিষ্কার করতে যাওয়ার কারণে বহিঃকর্ণের ত্বক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়, দেখা দেয় ত্বকের ইনফেকশন। সে ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম উপসর্গ দেখা দেয়। আর চিকিৎসাও একই ধরনের।
কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণ হলে সময়মতো চিকিৎসা নিতে হবে। তবে কানে যাতে ফাঙ্গাসের এই সংক্রমণ না ঘটে, সে জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কানের এই ব্যথা ভয়াবহ হতে পারে। এই সতর্কতার অন্যতম দিক হচ্ছে অযথা কান পরিষ্কারের কাজ থেকে বিরত থাকা। অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কান পরিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন নেই। কান পরিষ্কারের জন্য যত আয়োজনই আপনি করেন না কেন, তার কোনোটারই কোনো দরকার নেই।
মানুষের কান স্বাভাবিকভাবেই পরিষ্কার হয়ে যায়। আর এই পরিষ্কার থাকার ব্যবস্থা কানের মধ্যেই অটোমেটিকভাবে করা আছে। এ জন্য কোনো সাহায্যের দরকার নেই। তবে সব নিয়মেই যেমন ব্যতিক্রম থাকে, তেমনি এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম আছে। কারো কান খুব শুকনো থাকে। তাদের কানে ময়লা বেশি জমতে পারে। কিন্তু সেই ময়লা যখন কেউ নিজে থেকে পরিষ্কার করতে যান, তখন ধাক্কা খেয়ে সেটি আরো গভীরে চলে যায় এবং সেখানে আটকে থাকে। পরিণামে ব্যথা হয় এবং বহিঃকর্ণে ইনফেকশন হয়।
তাই ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে কান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে তাদের কানও পরিষ্কার থাকবে। শুধু কান পরিষ্কার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে অনেকেই, বিশেষ করে শিশুরা কানের ফাঙ্গাস সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে পারে। মনে রাখবেন, পরিষ্কার করা কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপার নয়। এটি আপনার কানে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। আর কানে কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে করলে তখন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ।

Thursday, February 23, 2017

কিছুদিন ধরে হয়তো আপনার শিশুর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল শুকনো, ঘন ঘন কাশি। তখন থেকে কাশি তার লেগেই আছে। বাড়ির কেউই ঘুমোতে পারেনি কাশির শব্দে। তবে অনেক চেষ্টার পরও কাশি থামছে না।
শিশুর রাত্রিকালীন কাশির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। আর এ ধরনের অসুস্থতা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে না। যেহেতু কাশি ফুসফুস দুটোকে পরিষ্কার রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি, তাই আপনি এটা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইতে পারেন না।
যদি আপনার শিশুর ভাইরাসজনিত অসুস্থতা থাকে, তার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিকল হয়। কাশি ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অস্বস্তিকর বস্তুকে বের করে দিয়ে ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। যদি আপনি কাশিকে পুরোপুরি দমিয়ে রাখেন, আপনি তাহলে একটা মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন—নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করলেন।
যদিও অনেক ক্ষেত্রে রাত্রিকালীন কাশিকে না ঘাঁটানোই ভালো, তবে প্রয়োজন দেখা দিলে আপনি কিছু ব্যবস্থা নিতে পারেন। এতে আপনার শিশু বেশ আরাম পাবে। সমস্যা গুরুতর মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রচুর পরিমাণ তরল খেতে দিন
আপনার শিশুর কাশি থাকলে তাকে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করানো ভালো। বিভিন্ন তরল, যেমন—ফলের রস, পানি কিংবা স্বচ্ছ ঝোল কফ বের করে দেওয়ার চমৎকার সহায়ক বস্তু হিসেবে কাজ করে।
বিভিন্ন তরল খাবার শুষ্ক, শক্ত কফকে আলগা করতে পারে এবং কাশির মাধ্যমে বের করে দিতে সাহায্য করে। আর ঠান্ডার ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতো এগুলোর কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
বিশেষ করে গরম পানীয়, আপনার শিশুর কাশি থাকলে বেশ আরাম দিতে পারে। অবশ্য যেকোনো ধরনের পানীয় কাশিতে আরাম দেবে।
যখন শিশুর কফ বোঝাই থাকে, সে মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে চায়। এতে তার গলা শুকিয়ে যায় এবং কফও শুকাতে শুরু করে। মুখ ও গলা শুধু ভেজা রাখলে কফ কমে যায়।
থার্মোস্ট্যাট কমিয়ে দিন
যদি শীতকালে আপনার শিশুর কাশির আক্রমণ হয়, আপনার ঘর যদি তখন গরম করেন, আপনি অবশ্যই রাতের বেলা থার্মোস্ট্যাট বা তাপ নিয়ামক কমিয়ে দেবেন, বাড়াবেন না। গরম, শুষ্ক বাতাস কাশিকে উত্তেজিত করে তোলে। কিন্তু যদি আপনি থার্মোস্ট্যাট কমিয়ে দেন, তাহলে ঠান্ডা বাতাস কিছু আর্দ্রতা সংরক্ষণ করে রাখবে।
বাষ্পীভূত করার জন্য ব্যস্ত হবেন না
যদিও মনে হতে পারে, ভেপোরাইজার দিয়ে কিছুটা আর্দ্রতা তৈরি করা বিচক্ষণ কাজ, কিন্তু সব সময় এ ধারণা ঠিক নয়। ভেপোরাইজার পরিষ্কার রাখা কঠিন কাজ। এটা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রজনন ভূমি। ঠিকমতো পরিষ্কার করা না হলে এখানে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মে। যদি আপনার শিশুর ছত্রাকে অ্যালার্জি থাকে অথবা অ্যাজমা থাকে, তাহলে ভেপোরাইজার আপনার শিশুর কাশিকে আরো খারাপ করে তুলবে।
বুকে মালিশ করা বাদ দিন
পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলো বুকে গরম অনুভূতির সৃষ্টি করে, এগুলো কাশি উপশমে কিছুই করতে পারে না। আর যদি শিশু নিশ্বাসের সঙ্গে এগুলো টেনে নেয় কিংবা গিলে ফেলে, তাহলে তার নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অ্যান্টিহিস্টামিন দিতে চেষ্টা করুন
যদি আপনার জানা থাকে যে আপনার শিশুর কাশির কারণ অ্যালার্জি, তাহলে তাকে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় অ্যান্টিহিস্টামিন খেতে দিন, এতে সে কিছুটা ঘুমোতে পারবে। অ্যালার্জিজনিত কাশিতে অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ বেশ উপকারী। প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার শিশুর বয়স অনুপাতে তাকে সঠিক মাত্রায় ওষুধটি দিতে হবে। সঠিক মাত্রার জন্য অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দেশনা ভালো করে পড়ে নেবেন অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
সঠিক কাশির ওষুধ বেছে নিন
যদি আপনার শিশু কয়েক রাত বেশ বাজে কাশি নিয়ে কাটাতে থাকে, তাহলে আপনি ডেক্সট্রোমেথরফ্যান এবং গুয়েফেনেসিন সমৃদ্ধ কাশির ওষুধ দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন। মূলত এ দুটো উপাদানের যেকোনো সিরাপ কাজ করবে। এ ধরনের ওষুধ একটু করে মিউকাস আলগা করে এবং খুব মৃদু কাশি উপসম করে। ডেক্সট্রোমেথরফ্যান শতভাগ কার্যকর নয়, কিন্তু সেটা সত্যিকার অর্থে ভালো। কারণ, কাশি পুরোপুরি দমন করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
সতর্কতা : শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে তাকে শক্তিশালী কাশির ওষুধ দেবেন না। কাশির প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্কের নিচের অংশে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই যদি আপনি আপনার ছোট শিশুকে কাশি দমনকারী কোনো ওষুধ দেন, তাহলে তার শ্বাস দমন করা হবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
আপনার শিশুর কাশি হলে তাকে চিকিৎসক দেখিয়ে কাশির কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ। রাত্রিকালীন কাশি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন : ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, অ্যাজমা, শিশু কিছু গিলে ফেলার কারণে শ্বাসপথে আংশিক অবরুদ্ধ অবস্থা, অস্বস্তিকর ধোঁয়া ইত্যাদি। কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক অসুখ, যেমন—সিস্টিক ফাইব্রোসিসের কারণে কাশি হতে পারে।
আপনার শিশুকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন যদি শিশুর নিচের উপসর্গগুলো থাকে :
* সারা রাত একটানা কাশি থাকলে।
* কাশির সঙ্গে শ্লেষ্মা বের হলে।
* জ্বর থাকলে।
* শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হলে।
* কাশি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী থাকলে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

Tuesday, February 21, 2017

প্রতিটা সন্তান মায়ের চোখের মনি, নাড়ি ছেঁড়া ধন। মায়ের কাছে তার সন্তান অনেক মূল্যবান অনেক বেশি আদরে। এই আদরের সন্তান যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়ে পড়েন মা। আর তা যদি হয় সদ্য জন্মগ্রহণ করা শিশু তবে চিন্তা বেড়ে যায় আরোও বহুগুণ। সাধারণত শরীরে অভ্যন্তরীণ কোন ইনফেকশন দেখা দিলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। যাকে আমরা জ্বর বা ফ্লু বলে থাকি।
অনেক বাবা মা বুঝতে পারেন না তার নবজাতক শিশুটির বার বার জ্বর বা ঠান্ডা কেন লাগছে!একজন নবজাতক শিশু পৃথিবীতে আসার পর প্রথম প্রথম কিছু সমস্যা দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক। মায়ের গর্ভের তাপমাত্রা, পরিবেশের সাথে বাইরের তাপমাত্রা, পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্পূর্ণ নতুন এক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। আর এই খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে শিশুকে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। শিশুর সামান্য ঠান্ডা, কাশি থেকে হয়ে যেতে পারে নিউমোনিয়া। যা শিশুর মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
কারণ:
যে সকল কারণে মূলত নবজাতকের সর্দি, ঠাণ্ডা, জ্বর হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম কিছু কারণ হল।
পরিবারে বড়দের কারোর ভাইরাসজনিত কারণে ঠান্ডা লাগলে তার সংস্পর্শে এসে শিশুর জ্বর হতে পারে।
শিশুর সামনে ধূমপান করলে এই ধোঁয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে আপনার আদরের সোনামণি।
অতিরক্ত ঠান্ডা পরিবেশ এসি, ফ্যানের নিচে থাকার কারণ শিশুর ঠান্ডা, ফ্লু হতে পারে। আবার অতিরিক্ত কাপড় পড়িয়ে রাখলে, ঘাম থেকে ঠান্ডা লেগে জ্বর চলে আসতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা কিংবা গরম উভয় পরিবেশ শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
শিশুর ঠান্ডা, জ্বর, ফ্লু ঘরোয়া কিছু উপায়ে ভাল করা সম্ভব। এমন কিছু ঘরোয়া উপায় নিয়ে আজকের এই ফিচার।
১। শিশুকে বিশ্রাম দিন
অনেক সময় ভ্যাকসিন দেওয়ার কারণে শিশুর জ্বর হতে পারে। এই ক্ষেত্রে শিশুকে বিশ্রাম দিন। খুব বেশি কাপড় শিশুর গায়ে রাখবেন না। অল্প কাপড় গায়ে রাখুন। বেশি কাপড় গায়ে থাকলে তা ঘেমে শিশুর জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।
২। মায়ের দুধ পান
শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে, তাকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ান। আর যদি বয়স হয় ছয় মাসের বেশি, তাহলে অল্প অল্প করে পানি, তরল ও নরম খাবার বারবার খাওয়ানো যেতে পারে।
৩। গরম বাষ্প
গরম বাষ্প শিশুর বুকে জমে থাকা সর্দি, কফ বের করে দিতে সাহায্য করে। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে নেবুলাইজার ব্যবহার করা হয়। ঘরে নেবুলাইজার না থাকলে শিশুকে কুসুম গরম পানিতে গোসল করাতে পারেন। কিংবা একটি কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিতে পারেন। এইরকম কয়েকবার করুন। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্বর অনেক নেমে গেছেন দেখবেন।
৪।স্যুপ পান
শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে শিশুকে স্যুপ দিতে পারেন। হজম করতে পারে এমন সবজি যেমন আলু, গাজর, পেঁয়াজ, আদা দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন স্যুপ। এটি শিশুর অভ্যন্তরীণ ইনফেকশন দূর করার সাথে সাথে শিশুর পেট ভরিয়ে রাখবে।
৫। নাক পরিষ্কার
নাকে সর্দি জমে বন্ধ হয়ে যায়। তখন শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই নাক পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। নাকের সর্দি পরিষ্কার করার জন্য দোকানে এক ধরণের ড্রপার পাওয়া যায়। আপনি এটি ব্যবহার করতে না চাইলে, এর পরিবর্তে স্যালাইন ব্যবহার করতে পারেন। একটি ড্রপারে সামান্য নাসাল স্যালাইন নিয়ে সেটি শিশুর নাকের ভেতর দিয়ে দিন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যে নাকে জমা সর্দি বের হয়ে আসছে। একটি কটন বাডস দিয়ে সেটি পরিষ্কার করে ফেলুন।
৬। ফ্যানের নিচে রাখুন
অনেক বাবা মা শিশুর জ্বর আসলে তাকে ফ্যান থেকে দূরে রাখেন। কিন্তু ফ্যান শিশুর শরীরে তাপমাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে। তবে হ্যাঁ খুব বেশিক্ষণ শিশুকে ফ্যানের নিচে রাখবেন না। শিশুর ঘরে ফ্যান বন্ধ রাখবেন না। অল্প গতিতে ফ্যান ছেড়ে শিশুকে ফ্যানের নিচে রাখুন।
৭। খোলামেলা কাপড় পরিধান
জ্বরের সময় শিশুটিকে বেশি কাপড় পরিয়ে রাখবেন না। শিশুটির কাপড় কিছু ঢিলাঢালা করে দিন। কম কাপড় আপনার শিশুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করবে না, বরং তাপমাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করবে। যদি তার শীত লাগে তবে কম্বল বা লেপ জাতীয় কিছু জড়িয়ে দিন শিশুটিকে।

Friday, February 17, 2017

একটি শিশুকে পূর্ণভাবে গড়ে তোলার জন্য মা-বাবার ভূমিকাই প্রধান। তার হাঁটাচলা থেকে শুরু করে কথা বলা, নিয়মানুবর্তিতা, পড়াশোনা, ঘরের টুকিটাকি কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের উৎসাহ তাকে অনুপ্রেরণা জোগায়। শিশুর সঙ্গে আপনি কেমন ব্যবহার করবেন? মনে রাখবেন, আপনার আচরণের ওপর নির্ভর করে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ। কখনো কখনো দায়িত্বশীল মা-বাবাও এ ব্যাপারে ভুল করে থাকেন। তাঁদের ভুলের জন্য নষ্ট হতে পারে সন্তানের জীবন। আপনার শিশুর সঙ্গে আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা নিচে আলোচনা করা হলো।
এক.
খুব বেশি কিংবা খুব কম প্রশংসা করবেন না
‘তুমি তোমার ময়লা কাপড়চোপড় বালতিতে রেখেছ? বাহ কী সুন্দর! তুমি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ছেলে।’ কোন কাজে কী ধরনের উৎসাহ দিতে হবে তা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। অনেক সময় বাবা-মা এসব খেয়াল করেন না। এতে একটি ভালো কাজ করে শিশুটি যদি সামান্য ধন্যবাদ পর্যন্ত না পায়, মানসিকভাবে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। আপনার শিশু কোনো ভুল করলে তার সমালোচনা না করে বরং সুন্দরভাবে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। আপনি যদি শিশুর খুঁত ধরে বেড়ান তাহলে ভবিষ্যতে নিজেকে দাঁড় করাতে সে ব্যর্থ হবে। তবে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত প্রশংসাও শিশুর জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত প্রশংসা শিশুকে ভুল পথে চালিত করে। যতটুকু প্রশংসার প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই করবেন, বেশি কিংবা কম। কোনোটাই নয়।
দুই.
মাঝেমধ্যে শিক্ষকসুলভ আচরণ করুন
স্যাটেলাইটের যুগে আপনার শিশু এমন কোনো ছবি দেখতে চাইতে পারে, যা তার দেখা উচিত নয়। সে বলতে পারে তার বন্ধুরাও এসব দেখছে, তবে সে কেন দেখতে পারবে না? আপনি সরাসরি তাকে গাইড করুন। প্রথমেই যদি আপনি নতি স্বীকার করেন তার চাহিদা আরো বেড়ে যাবে এবং শিগগিরই সে নষ্ট হয়ে যাবে। যদি আপনার শিশুর বোঝার মতো বয়স হয় এবং রীতিনীতি সম্পর্কে প্রশ্ন করার বুদ্ধি জন্মায় তবেই তাকে যুক্তি প্রদর্শন করুন।
তিন.
কখনোই উত্তেজিত হবেন না
শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় কখনো চিৎকার করে কথা বলবেন না। তারা যদি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, আপনি শান্ত অথচ দৃঢ় স্বরে তাকে বুঝিয়ে বলুন। আপনার শিশু যদি কান্না করে তাকে ধমক দেবেন না। আপনার আচরণ তার নরম মনে গেঁথে থাকে। মনে রাখবেন শিশুদের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বললে শিশুর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
চার.
শিশুকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করুন
আপনি নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে আপনার শিশুর মধ্যে ব্যক্তিত্ব আনুন। মুখ গোমরা করে রাখা, অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করা, অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো প্রভৃতি বাজে অভ্যাস থেকে তাকে বিরত রাখুন। সে কোনো কাজে ভুল করলে তা ধরিয়ে দিয়ে কিভাবে সংশোধন করতে পারে তা শেখান। সমবয়সীদের সঙ্গে ‘হ্যালো’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময়, বয়স্কদের সালাম দেওয়া, ভুল করলে ‘দুঃখিত’ বলে দুঃখ প্রকাশ করা প্রভৃতি আদবকায়দা তাকে শিখিয়ে দিন। পোশাকের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে তাকে সচেতন করুন। তার শোয়া, ওঠাবসা কেমন হবে তাকে তা শেখান।
পাঁচ.
একটি পছন্দনীয় কৌশল বেছে নিন
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা যদি কিছু শেখে, দেখেই শেখে। আপনি যা করবেন আপনার শিশুও তা করার চেষ্টা করবে। আপনার শৃঙ্খলাবোধ দেখে তারাও শৃঙ্খলাপ্রিয় হয়ে উঠবে। আপনি যদি মেজাজ গরম করেন, আপনার শিশুও চেষ্টা করবে আপনার মতো হতে। তাই আপনি নিজে এমন একটি কৌশল বেছে নিন, যা থেকে আপনার শিশু নিজেকে আপনার মতো করে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
ছয়.
শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন
প্রকৃত অর্থে নিয়মানুবর্তিতা হলো শেখার বিষয়। কঠোর আচরণ বা শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে তা আদায় করা যায় না। অনেক বাবা-মা তাদের শিশুকে শাস্তি দিয়ে থাকেন, এটা মোটেই উচিত নয়। শিশুরা বুঝতে পারে না কোন কাজটি ঠিক, কোন কাজটি ঠিক নয়। আপনি তাদের শেখান। শিশুদের শাস্তি প্রদান করলে হিতে বিপরীত হয়। শিশুকে মারধর করবেন না। বিশিষ্ট মনোচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জেমস উইনডেল বলেন, ‘এমন কোনো ভুল নেই যার জন্য শিশুদের শাস্তি দেওয়া চলে না। কিন্তু আপনি সর্বদা আপনার শিশুর সঙ্গে সুন্দর, মানবিক ও ক্ষমাসুন্দর আচরণ করুন।’
শিশুকে যদি শাস্তি দিতেই হয়, তাকে মারধর না করে অন্যভাবে শাস্তি দিন। যেমন :  আপনার শিশু যদি স্কুলে যাওয়ার সময় গাড়ি মিস করে, তাহলে সন্ধ্যায় তাকে বেশি করে হোমওয়ার্ক দিন। দেখবেন বেশি পড়াশোনার ভয়ে সে ঠিকই পরের দিন থেকে চেষ্টা করবে তাড়াতাড়ি স্কুলের বাস ধরতে।
সাত.
শিশুকে খেলাধুলা করতে বলুন
খেলাধুলায় শরীর সতেজ থাকে। শিশুকে খেলাধুলা করতে বলুন, এতে তার আলস্য কেটে যাবে। সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম প্রয়োজন। খেলাধুলা করা চমৎকার ব্যায়াম।
আট.
ভালো কাজের জন্য পুরস্কার দিন
আপনার শিশু যদি কোনো ভালো কাজ করে, তার জন্য তাকে পুরস্কার দিন। তাকে একটি সুন্দর বই, আইসক্রিম কিংবা একটি সুন্দর পোশাক কিনে দিতে পারেন। এতে তার ভেতর উৎসাহ সৃষ্টি হবে। সে অনুপ্রেরণা পাবে কাজ করতে।
নয়.
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেখান
আপনার শিশুকে কখন গোসল করতে হবে, কখন হাত-পা ধুতে হবে তা বলুন। সকালে ও রাতে দুবার তাকে দাঁত ব্রাশ করতে বলুন। নখ কাটতে বলুন, নখে যাতে ময়লা না জমে সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিন। তার বাথরুমটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলুন। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা বাথরুম তৈরি করুন।
দশ.
শিশুকে সহনশীল হতে বলুন
আপনার স্কুলপড়ুয়া ছেলে আপনাকে এসে বলল, তার বন্ধু তাকে মেরেছে। আপনি সে ক্ষেত্রে বলতে পারেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই এমন কিছু করছ যা তাকে প্ররোচিত করে তুলেছিল তোমাকে মারতে।’ আপনার শিশুকে আপনি সহনশীল হতে শেখান। সে যদি কারো সঙ্গে অসদাচরণ করে তাকে তা বোঝান। তাকে সব সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে বলুন। তার কাছ থেকে যেন অন্যরা শিখতে পারে সে ব্যাপারে তাকে জ্ঞান দিন। আপনার সমর্থন আপনার সন্তানদের শান্ত রাখবে। যখন তারা জানবে আপনি তাদের পাশেই আছেন, তারা চমৎকার অনুভূতি অনুভব করবে। প্রত্যেক বাবা-মায়েরই উচিত তাদের সন্তানের দিকে লক্ষ রাখা।
লেখক : আবাসিক সার্জন, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
Powered by Blogger.

Contact us

Name

Email *

Message *

Followers

Featured Posts

Social Icons

Pages

Facebook

Video

সর্বাধিক পঠিত

Our Facebook Page

Text Widget