Saturday, March 18, 2017

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনেকেই সারা বছর শরীরচর্চা করেন। কেউ কেউ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে তারা বেরিয়ে পড়েন মর্নিং ওয়ার্কে। কেউ আবার ট্রাকস্যুট, স্নিকার পরে খানিকটা দৌড়ে নেন।

তবে আচমকা অত্যাধিক শরীরের প্রতি যত্নশীল হয়ে পড়াটা মুশকিল। এক ঝটকায় এতটা যত্ন শরীর মানিয়ে নাও নিতে পারে। এতে আপনি আরও অসুস্থ হতে পারেন। তাই শরীরচর্চার আগেই কিছু কৌশল জেনে রাখা জরুরি। এতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাশাপাশি বিপদের হাত থেকেও বাঁচা যাবে।

দৌড়ানোর সময় শ্বাস নেওয়ার কৌশল সম্পর্কে আগেই জেনে নেয়া যাক।

নাক এবং মুখ:
দৌড়ানোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় নাক এবং মুখ একইসঙ্গে ব্যবহার করুন। নাক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ করে মুখ দিয়ে শ্বাস ত্যাগ করুন। এতে ফুসফুসের উপরে চাপ কম পড়বে।

মধ্যচ্ছদা:
দৌড়নোর সময় শুধু বুকের ছাতিই নয়, আপনার পাকস্থলীও প্রসারিত হওয়া জরুরি। একইভাবে শ্বাস ত্যাগের সময় মধ্যচ্ছদা পর্দা যাতে ঠিকঠাক সংকোচন হয় তাও খেয়াল রাখবেন।

পায়ের ছন্দ:
প্রতি শ্বাস গ্রহণ এবং শ্বাস ত্যাগের সময় লক্ষ্য রাখবেন যাতে দু’বার করে পা মাটিতে পড়ে। দৌড়নোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় পায়ের এই ছন্দ মেলানোটাও কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

অঙ্গভঙ্গি:
মাথা উপরের দিকে রাখুন এবং কাঁধ পিছনের দিকে। এই সময় সঠিক অঙ্গভঙ্গি দেহে প্রয়োজনীয় মাত্রার অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।

অভ্যাস:
সবশেষে মনে রাখবেন। প্রতিদিন দৌড়ানোর আগে এই অভ্যাসগুলো মেনে চলা খুবই উপকারী। দু’দিনের জন্য না করে অভ্যাসটি বজায় রাখুন। এতে আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে। যাদের বয়স ২০ বছর বা তার বেশি, তাদের রক্তে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একবার পরীক্ষা করে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখা উচিত। এ মাত্রা যদি ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হয় কিংবা কম ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরলের (ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল) মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হয়, তাহলে এগুলো রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রায় বিরাজ করে- এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে পরিমাণ কমানো উচিত। সাধারণত জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এর পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় আনা যায়। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা কঠিন কাজ নয়।
কোলেস্টেরলের কাক্সিক্ষত মাত্রা নির্ধারণ : আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত এবং আপনি কতটুকু কমাতে চান। এটা অনেক উপাদানের ওপর নির্ভর করে। যেমন- পরিবারের বা বাবা-মায়ের হৃদরোগের ইতিহাস আছে কিনা এবং আপনার হৃদরোগ হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে কি না, যেমন- উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাস, অতিরিক্ত মেদভুঁড়ি ইত্যাদি। যাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাদের কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল বা ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে থাকা উচিত। যাদের হৃদরোগের কোনো ঝুঁকি উপাদান নেই, তাদের ১৬০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে রাখা যেতে পারে
প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করতে হবে : যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের অবশ্যই জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। যদি হৃদরোগের উপসর্গ থাকে, তাহলে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধূমপান পরিহার করা, ওজন কমানো যেমন জরুরি, তেমনি ওষুধ সেবন করাও দরকার।
জীবনাচরণ পরিবর্তনের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কোলেস্টেরল কমানোর জন্য নানা রকম ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন- নিয়াসিন, ফাইব্রেটস স্টেটিনস ইত্যাদি। স্টেনিটন রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমাতে পারে।
হাঁটুন এবং ব্যায়াম করুন : শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম শুধু রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় না, উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ (বেশি ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল) ১০ শতাংশ বাড়ায়। জোরে জোরে হাঁটলেও এমন উপকার পাওয়া যায়। নৈশভোজের পর কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটুন। কেউ যদি প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করেন, তাহলে উপকৃত হবেন। কেউ যদি অফিসে চাকরি করেন, তার উচিত অন্তত প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিট হাঁটা বা চলাফেরা করা। আপনি যে ধরনের ব্যায়াম করুন না কেন, তা নিয়মিত করতে হবে।
চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন : কোলেস্টেরল কমানোর সহজ উপায় হচ্ছে ডিমের কুসুম এবং অন্যান্য বেশি কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পরিহার করা। তবে শুধু খাবারের কোলেস্টেরলই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য দায়ী নয়। সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- মাখন, চর্বিযুক্ত গরুর মাংস ও খাসির মাংসের পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল, মাছ পর্যাপ্ত খাওয়া উচিত।
আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান : সবজি এবং ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলও কমায়। দ্রবণীয় আঁশ পরিপাক নালি থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। শিম, বার্লিতে প্রচুর আঁশ থাকে।
বেশি মাছ খান : মাছ ও মাছের তেল কোলেস্টেরল হ্রাস কের। এর মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এটি রক্ত থেকে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে ফেলে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাছ খাওয়া উচিত। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। মাছ খেতে অনিচ্ছুকরা মাছের তেল থেকে তৈরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ ক্যাপসুল চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারেন। বিভিন্ন উদ্ভিদজাত খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। যেমন- সয়াবিন তেল, কাঠবাদামের তেল ইত্যাদি।
মদ্যপান পরিহার করুন : অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। মদ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
ধূমপান পরিহার করুন : ধূমপান করলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা বেশি ঘনত্বের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন : অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
লেখক : হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

শরীরে উচ্চমাত্রায় ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি রসুন, আমলকী ও মেথির মতো খাবার কাজে লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আপনার দৈনন্দিন ডায়েট ভালো স্বাস্থ্যের লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চমাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে যেসব খাবার কাজে লাগাতে পারেন, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। চলুন জেনে আসি এসব খাবার সম্পর্কে:

রসুন: রান্নাঘরেই পাবেন রসুন। স্বাস্থ্যকর রসুনের গুণাগুণ অনেকের জানা। রসুনে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ ও অর্গানোসালফার যৌগ। এই যৌগ ঔষধি গুণ হিসেবে কাজ করে। বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে বাজে কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর রসুন। এটি রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর রসুন দৈনিক অর্ধেক বা এক কোয়া করে খেলে কোলস্টেরলের মাত্রা ৯ শতাংশ কমতে দেখা যায়।

গ্রিন টি: গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে আছে পলিফেনল। এটি মানুষের শরীরে দারুণ উপকার দেয়। এটি শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি আমাদের শরীরকে সতেজ ও উৎফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। এটি হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের মেদ কোষে বেশি শর্করা ঢুকতে পারে না। ফলে এই চা আমাদের শরীরের ওজন ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

ধনে: আমাদের দেহে এলডিএল নামক একধরনের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে, যা দেহের শিরা-উপশিরার দেয়ালে জমে হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলে সমস্যা বাড়ায়। এর কারণে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধনে এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। আবার দেহের জন্য ভালো বা উপকারী একধরনের কোলেস্টেরল, এইচডিএলর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে শরীর সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে এই ধনে।

মেথি: মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য—তিনটিই বলা চলে। স্বাদ তিতা ধরনের। এতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি ও তারুণ্য ধরে রাখার বিস্ময়কর এক ক্ষমতা। যাঁরা নিয়মিত মেথি খান, তাঁদের বুড়িয়ে যাওয়ার গতিটা অত্যন্ত ধীর হয়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে। বিশেষত কৃমি মরে। রক্তের চিনির মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা কমে যায়। ডায়াবেটিসের রোগী থেকে শুরু করে হৃদ্‌রোগের রোগী পর্যন্ত সবাইকে তাঁদের খাবারে মেথি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আমলকী: টক আর তেতো স্বাদে ভরা আমলকী গুণে-মানে অতুলনীয়। ফলটি শুধু ভিটামিন আর খনিজ উপাদানেই ভরপুর নয়, বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করায়ও রয়েছে অসাধারণ গুণ। আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি-কাশি ঠেকাতে পারে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও আমলকীর জুসের গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে তা। নিয়মিত আমলকীর জুস খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে।

বিষন্নতা এমন একটি রোগ, যে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আবেগ-অনুভূতি এবং চিন্তা-চেতনার ব্যাপক পরিবর্তন হয়। সব সময় তারা পৃথিবীকে অশান্তিময় মনে করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি মন খারাপ ভাব বিদ্যমান থাকে। বিষণ্নতা মানসিক রোগগুলোর মধ্যে অত্যন্ত সাধারণ এবং ধ্বংসাত্মক একটি রোগ। কারণ এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি জীবন চলার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে এবং কোনো কোনো রোগী অবলীলায় আত্মহত্যার মাধ্যমে মুক্তি পেতে চেষ্টা করে এবং কখনো কখনো সফল হয়। তাই আর কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো বিষণ্নতা রোগটি পৃথিবীতে এক নম্বর ‘কিলার ডিজিজ’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। যেকোনো লোক
যেকোনো সময়ে বিষণ্নতা রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শতকরা ১০০ ভাগ রোগীই ভালো হয়ে যেতে পারে। এ রোগটির স্থায়িত্বকাল স্বল্প সময় থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হতে পারে। মাত্রায় এর আবার রকমফের হয়, যা কম মাত্রা থেকে দীর্ঘ মাত্রায় হতে পারে।
মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, ভালো লাগা, মন্দ লাগা প্রভৃতি নিয়েই গঠিত। যারা সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তি তারা তাদের প্রতিদিনের এই সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা প্রভৃতি বিষয়গুলো খুব সহজেই ম্যানেজ করে চলতে পারেন। কিন্তু যারা বিষণ্নতা রোগে ভোগেন তারা এগুলো সহজে ম্যানেজ করে চলতে পারেন না। কারণ বিষণ্নতা রোগটি ব্যাপকভাবে তাদের মন এবং মস্তিষ্ককে আক্রমণ করে। ফলে তারা চিন্তা-চেতনা, আনন্দ-বেদনা, আবেগ-অনুভূতি প্রভৃতির স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে। দেখা যায়, কোনো আনন্দদায়ক কাজে এরা আনন্দ পাচ্ছে না। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। উল্লেখ্য, আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মনোযোগ বা কাজকর্মের দক্ষতা আগের চেয়ে অনেক কমে যায়। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন ক্রমান্বয়ে দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। বিষণ্নতা রোগে যিনি ভুগছেন তিনিই জানেন কী অবর্ণনীয় কষ্ট তার মন, মস্তিষ্ক তথা সমস্ত শরীরে হয়। এটি ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো সম্ভব নয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এসব রোগীর জীবন আরো বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে। মানসিক রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা, সচেতনতার অভাব, অশিক্ষা-কুশিক্ষা ও কুসংস্কার এর জন্য দায়ী। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব রোগীকে ঝাড়-ফুঁক ও পানি পড়া দিয়ে যারা (ওঝা, ফকির, কবিরাজ, দরবেশ) চিকিৎসা করে থাকেন তাদের শরণাপন্ন হতো। এতে রোগীর কোনো কাজ তো হয়-ই না বরং সময় নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন অপচিকিৎসায় রোগীর কষ্ট আরো অনেক বেড়ে যায়। একজন মনোচিকিৎসক বা মানসিক রোগবিশেষজ্ঞই পারেন বিষন্নতায় আক্রান্ত রোগীকে আবার সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে।
বিষন্নতা রোগের কারণ
অনেক কারণেই বিষণ্নতা রোগটি হতে পারে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে­ পারিবারিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত, পারিপার্শ্বিকতার চাপ, বংশগত, অত্যধিক মানসিক চাপ, বেকারত্ব, প্রেম সংক্রান্ত জটিলতা, যৌন সমস্যা, আর্থিক সমস্যা প্রভৃতি। অনেক শারীরিক রোগের কারণেও এ রোগ হতে পারে।
বিষন্নতা রোগের উপসর্গ
দীর্ঘমেয়াদি অশান্তিবোধ, দুর্বিষহ জীবন, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের অভাব, চিন্তা করতে না পারা, মনোযোগ দিতে না পারা, খিটখিটে মেজাজ, অরুচি বা রুচি বেড়ে যাওয়া, হজমের গণ্ডগোল, যৌনতা সম্পর্কে উৎসাহ কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও স্বাস্থ্যহীনতা, সব কিছু হারানোর ভয়, নিজেকে অপরাধী ভাবা, সারাদিন বিষণ্ন অনুভূতি, কাজ-কর্মের ধীরগতি, সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, অস্থিরতা বা স্থবিরতা, মৃত্যু চিন্তা আসা, সব সময় মনে হয় এই মৃত্যু হবে, আত্মহত্যার চিন্তা করা বা আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো প্রভৃতি।
বিষন্নতা রোগের চিকিৎসা
বিষন্নতা রোগটির বর্তমানে অনেক নতুন ওষুধ আবিষ্কার হওয়ার ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে ও রোগ নিরাময় দ্রুততর হয়েছে। মনোচিকিৎসকরা নিশ্চিত করেই বলেছেন, বিষন্নতা রোগে আক্রান্ত রোগীর শতকরা ১০০ ভাগই ভালো হয়ে যায়। মনোচিকিৎসকরা প্রথমেই বিষন্নতাবিরোধী ওষুধ একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে খাওয়ার পরামর্শ দেন। সাধারণত এই জাতীয় ওষুধ খাওয়ার ২১ দিনের মাথায় উন্নতি পাওয়া যায়। মনোচিকিৎসকরা রোগীর উন্নতি পর্যবেক্ষণ করে ওষুধের ডোজ ধীরে ধীরে কমিয়ে পরে তা বন্ধ করে দেন। এ ছাড়া প্রয়োজনে সাইকোথেরাপি, আলো থেরাপি, ইলেকট্রোকনভালসিভ থেরাপি প্রভৃতি অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলেন। তাই বিষন্নতায় আক্রান্ত রোগীকে মনোচিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করতে হবে।
সারাদিন এই কাজ ওই কাজের ঝামেলার কারণে প্রচন্ড মানসিক চাপ গিয়েছে আপনার উপর দিয়ে। সারাক্ষণই এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করেছে মনের ভেতরে। একটি ঝামেলা শেষ হতে না হতেই কাঁধে আরেকটি ঝামেলা এসে চাপে। কতক্ষণ আর মেজাজ ঠিক রাখা যায় বলুন? আর এই সারাদিনের ঝক্কি ঝামেলাগুলোই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মনে পড়তে থাকে একের পর এক করে। তখন অস্থিরতায় ঠিক মত ঘুমও আসে না।

এমন সমস্যায় অনেকেই দিন পার করছেন। দিনের বেলার কাজের চাপ ও 
মানসিক অশান্তির প্রভাব রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার সময় চেপে ধরে। ফলে রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে এবং পরিপূর্ণ বিশ্রাম হয় না। স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খিট খিটে হয়ে থাকে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলা উচিত। আসুন জেনে নেয়া যাক রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলার ৫টি সহজ উপায়।

হালকা গরম পানিতে গোসল
মানসিক চাপ দূর করার জন্য হালকা গরম পানিতে গোসল করার বিকল্প নেই। ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা গরম পানিতে কিছুটা লেবুর রস অথবা গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। এবার এই পানিটি পুরো শরীরে ঢেলে গোসল করে নিন। রাতে গোসল করলে যাদের ঠান্ডা লাগার সমস্যা আছে তাঁরা চুল ভেজাবেন না। এভাবে হালকা গরম পানিতে গোসল করে ঘুমাতে গেলে মানসিক চাপ অনেকটাই কম থাকবে এবং ঘুম ভালো হবে।

বুক ভরে দম নিন
দিন শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মন থেকে মানসিক চাপ দূর করতে চাইলে বুক ভরে নিশ্বাস নিন। মনে মনে এক থেকে ৫ পর্যন্ত গুনুন। এরপর ধীরে ধীরে দম ছাড়তে থাকুন। নিশ্বাস ছাড়ার সময় মনে মনে ভাবুন যে আপনি আপনার মাথা থেকে সব চাপ ঝেড়ে বের করে দিচ্ছেন নিঃশ্বাসের সাথে সাথে। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে মানসিক চাপ কমে যায় অনেকটাই।

স্নি আলো জ্বালুন
ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘরের সব উজ্জ্বল আলো নিভিয়ে স্নি আলো জ্বেলে দিন। নাইট বাল্ব, ল্যাম্প কিংবা মোম বাতির স্নি আলোতে মানসিক প্রশান্তি মেলে। এছাড়া এ ধরনের হালকা আলোতে ঘুমও ভালো হয়। তাই মানসিক চাপ দূর করে প্রশান্তি আনতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্নি আলো ছায়া পরিবেশ তৈরি করে নিন বেডরুমে।

হালকা মিউজিক শুনুন
মন থেকে অস্থিরতা দূর করতে হালকা মিউজিক কিংবা ধীর লয়ের গানের বিকল্প নেই। ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার পছন্দের কোনও হালকা ধরনের মিউজিক বা গান ছেড়ে দিন। উচ্চ শব্দে না ছেড়ে অল্প শব্দে ছাড়ুন। তাহলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে এবং ঘুম ভালো হবে।

গরম দুধ খান
ঘুমাতে যাওয়ার আগে চা কফি খাবেন না। এমন কি সন্ধ্যার পর থেকে চা কফি খেলেও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খেয়ে নিন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম দুধ খেলে শরীর ও মন শিথিল হয় এবং ঘুম ভালো হয়। 
১। পরিবারের প্রিয় মানুষটি যদি হঠাৎ নিয়মের ব্যতিক্রম করে নির্ধারিত সময়ের পরেও বাসায় ফিরে না আসে, কোন যোগাযোগও না করে তবে তার জন্য স্বজনেরা স্বভাবতই চিন্তিত হন, উৎকন্ঠিত হন। আবার আগামীকাল আপনার নিজের শরীরে একটা অপারেশন হবে  সেটা নিয়েও আপনি ভয় পাবেন, এটাই স্বাভাবিক। কোন ধরণের শারীরিক মানসিক-সামাজিক হুমকি, বিপদ বা অনাকাংক্ষিত ঘটনার আভাস পেলে আমরা সতর্কিত হই, সেটিকে মোকাবেলা করবার জন্য দেহ ও মনের এই প্রতিক্রিয়া বা আবেগকে বলা হয় ভীতি (Fear)। প্রকৃত আসন্ন বিপদ বা হুমকিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভীতি কোন রোগ নয় কিন্তু কারন ছাড়া তৈরী হওয়া ভীতি বা উদ্বিগ্ন হওয়াটাই
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় উৎকন্ঠা বা Anxiety । প্রকৃত কারণে উৎকন্ঠিত হওয়াটা কোন অস্বাভাবিকতা নয়।
২। উৎকন্ঠা বা Anxiety এর অস্বাভাবিক প্রকাশ দুইরকম ভাবে হতে পারে  প্রথমত উৎকন্ঠিত হবার মতো যথার্থ কোন কারন ( কোন আসন্ন বিপদ বা ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা ) না থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ মনগড়া কারনে অযথা ভীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। যেমন স্কুল থেকে তার সন্তান হারিয়ে যাবে শুধু এই কারনে কেউ যদি স্কুলের গেটের কাছে বসে বসে ঘামেন বা স্কুলে তার সন্তান ছাঁদ থকে পড়ে যাবে ভেবে স্কুলে পাঠানোই বন্ধ করে দেন অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাপ পাওয়া গেছে খবর পড়ে কলাবাগানের এপার্টমেন্টে বসে সাপের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত ভয় পাওয়ার যথার্থ কারন রয়েছে ঠিকই কিন্তু ভয় পাওয়ার প্রকাশভঙ্গির মাত্রা অর্থাৎ উৎকন্ঠার পরিমাণ অস্বাভাবিক রকম বেশী, ভয়ের কারনের অনুপাতে অনেক বেশী। 
যেমন সন্তানের স্কুল থেকে বাসায় ফিরতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একঘন্টা পেরিয়ে গেলে  অস্বাভাবিক উৎকন্ঠায় মা নিজেই হয়ত অজ্ঞান হয়ে গেলেন; খবরে দেখলেন মতঝিলে গাড়ি ভাংচুর হচ্ছে, বোমা ফুটছে আর সেই সময় আপনার কোন প্রিয়জন বাসার বাইরে আছেন - তিনি মতিঝিলে আছেন না কোথায় আছেন না জেনেই অযথা উৎকন্ঠিত হয়ে, ঘেমে নেয়ে চিৎকার করে পাড়া মাথায় করে ফেললেন। 
উৎস ভেদে উৎকন্ঠা আবার দু রকম  এক, বস্তুগত / স্থানগত (Objective or Situational)  টিকটিকি বা আরশোলা দেখে ভয় পাওয়া বা নৌকায় চড়তে ভয় পাওয়া, একা একা কোথাও যেতে সাহস না পাওয়া। দুই, পরিবর্তনশীল উৎকন্ঠা (Free floating anxiety)  কেউ কেউ সকল কিছু নিয়ে সবসময় উৎকন্ঠিত হন, কারো হার্ট এটাক হয়েছে শুনলে ভাবতে থাকেন আমারও তো বুকে ব্যথা হয়, আমারও হার্ট এটাক হচ্ছে, সেই তিনিই সন্তান স্কুলে গেলে ভয়ে উৎকন্ঠায় আধমরা হয়ে যান; আবার চোরের ভয়ে বাড়িতে চারটে কলাপসিবল গেটে আটটি তালা ঝুলিয়েও তার রাতে ঘুম আসে না।
৩। উৎকন্ঠা আমাদের মন থেকেই তৈরী হয়। জটিল মনস্তাত্ত্বিক স্নায়োবিক পরিবর্তনের কারনে উৎকন্ঠার উদ্ভব, Sigmund Freud এর মতে অবচেতন মনের অবদমিত কামনা বাসনা গুলো যখন সজ্ঞান চেতনায় আসতে চায় তখন তৈরী হয় মানসিক দ্বন্দ্ব; আর এই দ্বন্দ্বের প্রকাশই হচ্ছে উৎকন্ঠা। মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় উৎকন্ঠা বা Anxiety প্রধানত তিন প্রকার।
· জেনারেলাইজড এংজাইটি ডিসর্ডার - যেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় সবসময় সবকিছু নিয়ে উৎকন্ঠিত হন, পরিবর্তনশীল উৎকন্ঠার উদাহরণে আমরা যেটা দেখতে পেয়েছি।
· ফোবিক এংজাইটি ডিসর্ডার - কোন বিশেষ বস্তু, প্রানী, পরিবেশ, পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়া। যেমন অনেক লোকের ভীড়ে গেলে উৎকন্ঠিত হওয়া(Agoraphobia) , তাই ভীড়ের জায়গা এড়িয়ে চলেন তারা। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি ঐ বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে উৎকন্ঠিত হন না।
· প্যানিক ডিসর্ডার - কোন বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয়েও মাঝে মাঝে নিজের কল্পনা প্রসুত কারনে উৎকন্ঠিত হওয়া, যেমন রাতে শুয়ে আছে, হঠাৎ আজ  রাতে যদি আমার হার্ট এটাক হয় এটা ভেবেই নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দিলেন। এক্ষেত্রে উৎকন্ঠিত হবার মত নূন্যতম কোন বাস্তু বা ঘটনাই উপস্থিত নেই।
৪। উৎকন্ঠার লক্ষণ নানা রকম হতে পারে -
· ভীতি গ্রস্থ হওয়া
· খিটখিটে মেজাজ
· সামান্য শব্দে উত্তেজিত হওয়া
· অস্থিরতা
· মনোযোগের অভাব
· ভুল পথে চিন্তা করা
· মুখ-জিহবা শুকিয়ে যাওয়া ও পানি পিপাসা পাওয়া
· ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া
· পেটে অস্বস্তি বোধ করা
· পেট ফাঁপা ভাব
· বারবার বাথরুমে যাওয়া
· বুকে চাপ অনুভব করা
· নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া
· বুক ধরফর করা
· মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা হওয়া
· হাত পা এর কাপুঁনি হওয়া - বিশেষত হাতের আঙ্গুল কাঁপা 
· মাথা ব্যথা,গা ব্যথা,হাত পা জ্বালা করা
· ইনসমনিয়া (ঘুম কম হওয়া),হঠাৎ ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে জেগে উঠা
· দুশ্চিন্তা করা
· দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানো
· বসে বসে পা নাড়ানো
· ক্ষিধে কমে যাওয়া
· বিষন্নতা
· অবসেশন - বিশেষ কিছু নিয়ে ক্রমাগত ও বারবার চিন্তা করা (রাতে শোবার পর কয়েকবার উঠে দেখা দরজা বন্ধ করা হয়েছে কি না)
· উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়ার কারন - বিশেষ বস্তু, প্রাণী, ভীড়, সামাজিকতা ইত্যাদি এড়িয়ে চলা
· ঘাম হওয়া,বমি বমি ভাব হওয়া
· হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসা
· মৃত্যুভয় পাওয়া ইত্যাদি
সবগুলো লক্ষণ যে একই ব্যক্তির মধ্যে একসাথে পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয়, বরং উৎকন্ঠার প্রকারভেদে কিছু লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন সময় দেখা যায়।

৫। মানসিক অসুস্থতার মধ্যে উৎকন্ঠা বা Anxiety নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে কেবলমাত্র ওষুধ প্রয়োগ করে এ রোগের লক্ষণগুলো কমিয়ে রাখা যায় কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় করবার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরন করা যেতে পারে, যেমন 
· সাইকোথেরাপি বা মনোচিকিৎসা - মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে।
· আচরণ পরবর্তন করার প্রক্রিয়া (Behaviour therapy)
· শিথিলায়ন প্রক্রিয়া (Relaxation technique)
· প্রয়োজন মতো ঘুমানো।
· খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন - সহজপাচ্য খবার ও প্রচুর পানি পান করা।
· ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করা ও অতিরিক্ত মদ্যপান কমানো।
· বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এন্টি-এংজাইটি ওষুধ সেবন।
· চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারনে -অকারনে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা।
মনে রাখতে হবে একজন উৎকন্ঠিত রোগীর জন্য - উপসর্গ, রোগীর বয়স ইত্যাদি ভেদে উপরের প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে বাছাই করে চিকিৎসাপদ্ধতি প্রদান করা হয়।
৬। এংজাইটি থেকে সৃষ্টি হতে পারে বিষন্নতার মতো কঠিন মানসিক ব্যাধি। তাই দেরি না করে উৎকন্ঠা কমানোর জন্য মেনে চলুন কিছু নিয়ম কানুন,  আর প্রয়োজনে সহায়তা নিন চিকিৎসকের।

Wednesday, March 1, 2017

হাত-পা অথবা চোখ ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও রক্ত ছাড়া বাঁচার কথা কল্পনাও করা যায় না। মানবদেহে রক্ত তাই অপরিহার্য। জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় রক্ত পরিসঞ্চালন কখনো কখনো তৈরি করতে পারে জটিলতা।
  • রক্তবাহিত রোগের সংক্রমণ এখনো একটি প্রধান সমস্যা। হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু সহজেই রক্তের মাধ্যমে রক্তগ্রহীতার দেহে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিস্থিতির মূল কারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তটি জীবাণুমুক্ত কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করা। অনুমোদনহীন এসব রক্ত বিক্রি করা হয়। আর তা আসে মূলত নেশাসক্ত পেশাদার রক্তদানকারীদের থেকে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত বা ভেজাল রক্তও এসব ব্লাড ব্যাংক থেকেই আসে।
  • ভুলক্রমে এক গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রোগীদের দিলে রক্ত হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এ ধরনের ঘটনা কম হলেও একেবারেই হয় না, তা নয়। এসব ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহকারী ও পরীক্ষাকারী ব্লাডব্যাংক, চিকিৎসক অথবা নার্স যে কারো ভুল বা অসতর্কতা দায়ী। রোগী সাধারণত বুকে-পিঠে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করে থাকে। চিকিৎসক দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। এ ছাড়া যেকোনো পরিসঞ্চালনেই কাঁপুনি ও জ্বর আসা এবং অ্যালার্জি জাতীয় ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে।
  • যাদের কিছুদিন পরপর রক্ত নিতে হয়, তাদের দেহে লৌহের আধিক্যসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
  • অনেক সময় অধিক রক্ত দ্রুত প্রবেশ করলে বৃদ্ধ অথবা হৃদরোগীর হার্ট ফেইলিউর জাতীয় সমস্যা হতে পারে।
অবশ্য রোগী বা তাঁর আত্মীয়স্বজন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন, রক্ত পরিসঞ্চালনের আগেই যখন দেওয়ার জন্য রক্ত খুঁজতে থাকেন। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ব্লাড গড়ে উঠলেও নিরাপদ রক্ত এখনো দুর্লভ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্ত প্রয়োজন হলে, তা হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। এ ছাড়া যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয়, তাদের বেশিরভাগ সময় যায় রক্তের খোঁজে। দুর্লভ দলের রক্ত হলে তো কথাই নেই।
আমাদের কী করা উচিত
রক্ত যে কারোরই যেকোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে—এ কথা মনে রেখে আমরা যদি এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি, তবে রক্ত পরিসঞ্চালনের সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। আমাদের যেসব উদ্যোগ নিতে হবে তা হলো :
  • নিজের, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা।
  • নিকটস্থ ব্লাড ব্যাংকের ঠিকানা ও ফোন নম্বর জেনে রাখা।
  • শুধু নিবন্ধনকৃত ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান ও গ্রহণ করা।
  • পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না কেনা।
  • নিজে নিয়মিত রক্তদান করা এবং সকলকে উদ্বুদ্ধ করা।
  • রক্তবাহিত রোগে সংক্রমিত হলে রক্তদান না করা।     
গর্ভাবস্থা প্রত্যেক প্রসূতির জন্য একদিকে যেমন খুশির কারণ, অন্যদিকে থাকে আশঙ্কা। আশার কথা, সাধারণভাবে শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ গর্ভাবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটে সুষ্ঠুভাবে। তবে বাকি  ৫ থেকে ১০ ভাগ মায়ের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিকতা বা জটিলতা। এ জন্য চাই প্রসূতিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা। কারণ, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসা না হলে মা ও শিশু উভয়ের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং পরবর্তী সময়ের বিপজ্জনক সমস্যাগুলো কখনো কখনো সতর্কসংকেত ছাড়াই হঠাৎ দেখা দিতে পারে। তবুও সব দম্পতিকে এবং আত্মীয়স্বজনকে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভের লক্ষণ, বিপদের পূর্বাভাস ও মারাত্মক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যেকোনো খারাপ অবস্থার জন্য আগে থেকে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি না থাকলে সমূহ বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। কোথায় নিকটবর্তী মাতৃসদন হাসপাতাল বা ক্লিনিক এবং সেখানে কীভাবে, কোন পথে যেতে হয় তা-ও জেনে রাখা ভালো। যানবাহন বা অ্যাম্বুলেন্স কোথায় কীভাবে পাওয়া যায়, তা-ও খোঁজখবর নিয়ে রাখা প্রয়োজন। সে জন্য কীভাবে কোথায় যোগাযোগ করতে হয়, তা জানতে হবে। প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর, বিশেষ করে মোবাইল ফোন যদি থাকে অবশ্যই তার নম্বর জেনে নিতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভ
যেসব ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের সময় মারাত্মক জটিলতা বা বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে, সেসব অবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়। যেমন :
১. গর্ভবতী মায়ের বয়স যখন ২০ বছরের কম।
২. ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ।
৩. দুই বছরের কম বিরতি দিয়ে গর্ভধারণ।
৪. আগে চার বা তার অধিকবার গর্ভধারণ।
৫. আগে কম ওজনের সন্তান জন্ম দেওয়ার ইতিহাস।
৬. আগে প্রসবের প্রত্যাশিত বা নির্ধারিত সময়ের আগে সন্তানের জন্ম হওয়া।
৭. আগে মায়ের গর্ভপাত, অপরিণত বা মৃত শিশু প্রসব হওয়া।
৮. পূর্ববর্তী প্রসব জটিলতা বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হওয়া।
৯. উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়া, অর্থাৎ চার ফুট ১০ ইঞ্চির কম হওয়া।
১০. প্রসবপথের কোনো সমস্যা থাকা।
গর্ভকালীন বিপদের পূর্বাভাস বা লক্ষণ
ক. গর্ভকালে ওজন প্রতি মাসে না বাড়া। প্রসবের আগে ওজন কমপক্ষে সাত কেজি বাড়া উচিত।
খ. চোখের পাতার ভেতরের দিক জিহ্বা, মুখমণ্ডল, হাতের তালু ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, অর্থাৎ রক্তশূন্যতা হওয়া।
গ. হাত, পা বা মুখ ফুলে যাওয়া বা পানি আসা।
ঘ. গর্ভাবস্থায় যেকোনো সময় তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া।
ঙ. জরায়ুতে শিশুর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।
চ. অবিরাম মাথাব্যথা।
ছ. গর্ভাবস্থায় তিন মাসের পরও বমি।
নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
১. গর্ভাবস্থায় যেকোনো সময় প্রসবপথে রক্তপাত হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা (উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ)।
৩. খিঁচুনি।
৪. অবিরাম বমি।
৫. প্রচণ্ড জ্বর।
গর্ভবতী ও তার কাছাকাছি অবস্থানকারী আত্মীয়স্বজনের সচেতনতা ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা থেকে মা ও গর্ভস্থ সন্তানকে রক্ষা করতে পারে। তাই প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা করা। এ ব্যাপারে সব চিকিৎসক, বিশেষ করে যাঁরা গর্ভবতীর চেকআপ ও যত্নের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের রয়েছে অপরিসীম দায়িত্ব। কারণ, তাঁদের সময় নিয়ে গর্ভবতী ও তাঁর আত্মীয়স্বজনকে এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোকে আরো বেশি তৎপর হতে হবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
আপনি লক্ষ করলেন, আপনার শিশুটি বেশ কিছুদিন ধরেই কান চুলকানোর চেষ্টা করছে। এর আগে ওর মা কটনবাড দিয়ে কান পরিষ্কার করে দিয়েছেন; কিন্তু তাতেও উপশম হয়নি। শিশুর কানের ব্যাপারে আপনারা খুবই যত্নশীল, তাই নিয়মিত শিশুর কান পরিষ্কার করেন। কিন্তু তার পরও শিশুর কান চুলকানো সারছে না। ইদানীং শিশুর কান চুলকানোর প্রবণতা বেশ বেড়েছে, কানে ব্যথাও হচ্ছে সঙ্গে। দু-একদিন হলো কানব্যথাটা বেশ বেড়েছে, সঙ্গে কান দিয়ে পানির মতো কষ ঝরছে। অবস্থা ক্রমে খারাপের দিকেই যাচ্ছে।
একই রকম ঘটনা দেখা দিতে পারে বড়দের ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত কান পরিষ্কারের নামে পরম আয়েশে কানে কটনবাড দিয়ে কান থেকে যাবতীয় ময়লা বের করে আনার চেষ্টা চালাতে থাকেন।
এ দৃশ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষয়টি হচ্ছে অটোমাইকোসিস কিংবা অটোমাইকোসিস উইথ ওটাইটিস এক্সটারনা। অটোমাইকোসিস কথার অর্থ হচ্ছে কানে ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। আর অটোমাইকোসিস উইথ ওটাইটিস এক্সট্রারনার অর্থ হচ্ছে কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণের সঙ্গে বহিঃকর্ণের ত্বকে প্রদাহ।
কানের বাড়তি যত্ন নিতে গিয়ে অনেক অভিভাবকই নিজে এবং শিশুর কান পরিষ্কার করে থাকেন। যদিও স্বাভাবিকভাবে কান পরিষ্কার করার কোনো দরকারই নেই। তার পরও অভিভাবকরা এই কাজ করে থাকেন। এতে কানে দেখা দেয় নানা ধরনের সংক্রমণ। এই সংক্রমণের অধিকাংশই হয়ে থাকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস সংক্রমণের কারণে। একই সঙ্গে দেখা যায় প্রদাহজনিত ইনফেকশন। আর এসব ইনফেকশন হয়ে থাকে প্রদাহজনিত বহিঃকর্ণের সরু নালিপথে।
এবার দেখা যাক, কীভাবে কানে এ ধরনের সংক্রমণের সূত্রপাত হয়
কানে কটনবাডসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ব্যবহারের কারণে বহিঃকর্ণের মধ্যে দেখা দেয় ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। কানের এই ফাঙ্গাস দেখতে ভেজা পেপারের মতো। আরেক ধরনের ফাঙ্গাস দেখতে ছাই রঙের ময়লা কাদার মতো, ফাঙ্গাস সংক্রমণের শুরুতে বহিঃকর্ণের পথে চুলকাতে শুরু করে। কান চুলকানোর এই ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণের প্রকোপ বাড়তে থাকার কারণে একপর্যায়ে বহিঃকর্ণের পথে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি আরো নাজুক করে তোলে। এ পরিস্থিতিতে কানের ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। আগেই বলা হয়েছে, কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণের বিষয়টিকে অটোমাইকোসিস বলা হয়ে থাকে। অবস্থা জটিল হলে অটোমাইকোসিসের সঙ্গে বহিঃকর্ণের পথে ইনফেকশন থাকে। এ অবস্থায় কানে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কান দিয়ে কষের মতো ঝড়ে এবং কানে বন্ধভাব দেখা দেয়। কানের ফাঙ্গাস পরিষ্কার করে সেখানে অ্যান্টিফাঙ্গাল বা ফাঙ্গাস নিরাময়ের মলম ব্যবহার করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকও গ্রহণ করতে হয়।
অনেক সময় কান পরিষ্কার করতে যাওয়ার কারণে বহিঃকর্ণের ত্বক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়, দেখা দেয় ত্বকের ইনফেকশন। সে ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম উপসর্গ দেখা দেয়। আর চিকিৎসাও একই ধরনের।
কানে ফাঙ্গাস সংক্রমণ হলে সময়মতো চিকিৎসা নিতে হবে। তবে কানে যাতে ফাঙ্গাসের এই সংক্রমণ না ঘটে, সে জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কানের এই ব্যথা ভয়াবহ হতে পারে। এই সতর্কতার অন্যতম দিক হচ্ছে অযথা কান পরিষ্কারের কাজ থেকে বিরত থাকা। অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কান পরিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন নেই। কান পরিষ্কারের জন্য যত আয়োজনই আপনি করেন না কেন, তার কোনোটারই কোনো দরকার নেই।
মানুষের কান স্বাভাবিকভাবেই পরিষ্কার হয়ে যায়। আর এই পরিষ্কার থাকার ব্যবস্থা কানের মধ্যেই অটোমেটিকভাবে করা আছে। এ জন্য কোনো সাহায্যের দরকার নেই। তবে সব নিয়মেই যেমন ব্যতিক্রম থাকে, তেমনি এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম আছে। কারো কান খুব শুকনো থাকে। তাদের কানে ময়লা বেশি জমতে পারে। কিন্তু সেই ময়লা যখন কেউ নিজে থেকে পরিষ্কার করতে যান, তখন ধাক্কা খেয়ে সেটি আরো গভীরে চলে যায় এবং সেখানে আটকে থাকে। পরিণামে ব্যথা হয় এবং বহিঃকর্ণে ইনফেকশন হয়।
তাই ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে কান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে তাদের কানও পরিষ্কার থাকবে। শুধু কান পরিষ্কার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে অনেকেই, বিশেষ করে শিশুরা কানের ফাঙ্গাস সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে পারে। মনে রাখবেন, পরিষ্কার করা কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপার নয়। এটি আপনার কানে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। আর কানে কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে করলে তখন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ।
সুন্দর দাঁত কার না ভালো লাগে? তবে দাঁতকে সুন্দর রাখতে হলে প্রয়োজন দাঁতের যত্ন। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে দাঁতের যত্ন নিয়ে কিছু পরামর্শ। 
১. এসিডিক ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। এ ধরনের খাবারগুলো দাঁতের ক্ষয় করে। 

২. প্রচুর পানি পান করে মুখকে আর্দ্র রাখুন। শুষ্ক মুখ দাঁতের ক্ষয় বাড়িয়ে দেয়।

৩. দাঁত ব্রাশের জন্য সঠিক টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। তাই নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করুন। শক্ত টুথব্রাশ ব্যবহারে দাঁতের ক্ষতি হয়।

৪. ফ্লোরাইড বেজ মাউথওয়াশ দিয়ে নিয়মিত মুখ কুলি করুন।

৫. দাঁত ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার খান।

৬. দাঁতে সমস্যা থাকলে তো চিকিৎসকের কাছে যাবেনই, তবে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকার জন্য বছরে অন্তত দুবার দন্ত্যচিকিৎসকের কাছে যান। 

৭. প্রতিদিন মাড়ি ম্যাসাজ করুন। মাড়িতে ম্যাসাজ করা রক্ত সঞ্চালনকে বাড়িয়ে দেয়। 

Sunday, February 26, 2017

ঘুম শরীরকে চাঙ্গা করে পরবর্তী দিনের কাজের জন্য আমাদের তৈরি করে। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা অবসাদ ও ক্লান্তি তৈরি করে কর্মোদ্দম কমিয়ে দেয়। যাঁরা এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা হয়তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভরসা করেন ঘুমের ওষুধের ওপর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশি ঘুমের ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে ওষুধকে এড়িয়ে কীভাবে ঘুম আসতে পারে? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বাতলে দিয়েছে ঘুম আসার কিছু প্রাকৃতিক উপায়ের কথা।
১. বিছানা থেকে উঠে যান
অনেকেই আছেন যাঁরা ঘুম না এলেও ঘুম আসার জন্য বিছানার এপাশ ওপাশ করতে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খেলা বন্ধ করুন এবং বিছানা থেকে উঠে যান। ২০, ৩০, ৪০ মিনিট- যতক্ষণ না ঘুম আসে বিছানায় আসবেন না। এই ৩০ থেকে ৬০ মিনিট এমন কিছু করুন যা আপনাকে ক্লান্ত করে দেবে। এই ক্লান্তি ঘুম আসতে সাহায্য করবে। তবে খুব বেশি আলোর মধ্যে কিছু করতে যাবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে ঘুম একেবারেই উধাও হয়ে যেতে পারে।
২. ক্যাফেইন এড়িয়ে যান
ক্যাফেইন-জাতীয় খাবার ঘুম তাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমের অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আগে শেষ চা বা কফিটুকু পান করুন। এমনকি যাঁদের ঘুম ঠিকমতো না হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের দুপুরের খাবারের পর কফি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. গরম পানিতে গোসল
ঘুম না আসার সমস্যা হলে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এই পদ্ধতি শরীরকে শিথিল করে ঘুম আসতে সাহায্য করবে।
৪. ধ্যান
একটি চমৎকার মেডিটেশন বা ধ্যান ঘুম আসতে বেশ কার্যকর। ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, ধ্যান ইনসমনিয়া বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। ধ্যান মন ও শরীকে শিথিল করে। এ ছাড়া ধ্যানের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ঘুম আসতে বেশ সাহায্য করে। 
৫. শারীরিক পরিশ্রম
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম ঘুম আসতে কার্যকর প্রাকৃতিক ওষুধ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের ঘুম ভালো আসে। তাই ভালো ঘুম হতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন।
৬. যোগব্যায়াম
সারা বিশ্বেই যোগব্যায়াম করা ভালো ঘুম হওয়ার জন্য একটি প্রাকৃতিক উপায়ের নাম। যোগব্যায়াম শরীরকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।
৭. অ্যারোমা থেরাপি
অ্যারোমা থেরাপির মধ্যে যে প্রয়োজনীয় ভেষজ তেল, বাথ স্ক্রার, চোখের মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় সেগুলো ভালো ঘুম হতে উপকার করে। ২০০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, ভেষজ তেলের ঘ্রাণ গভীর ঘুমের জন্য বেশ উপকারী। তাই যাঁরা ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা পার্লারে গিয়ে অ্যারোমা থেরাপি নিয়ে দেখতে পারেন।  
৮. শোবার ঘর
ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরও হওয়া চাই উপযুক্ত। আপনি হয়তো এমন ঘরে ঘুমালেন, যার আশপাশে অনেক শব্দ হয় বা প্রচুর আলো এসে পড়ে। এগুলো ঘুমকে ব্যাহত করে। তাই শোবার ঘরের কিছু পরিবর্তন জরুরি। একটু মন দিয়ে ভাবুন কী পরিবর্তন করলে আপনার শোবার ঘরটি ঘুমের উপযুক্ত হবে? সেটা হতে পারে ম্যাট্রেসের পরিবর্তন বা জানালায় ভারী পর্দা লাগানো। এ ছাড়া ভালো ঘুমের জন্য টিভি, কম্পিউটার এসব জিনিসগুলোও শোবার ঘর থেকে দূরে রাখুন। কেননা এগুলোও ভালো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
৯. ভেষজ চা
ঘুমের আগে চা-কফি একদম খাবেন না, তবে ক্যাফেইন ছাড়া ভেষজ চা খেতে পারেন। যেমন : ভ্যালেরিয়ান অথবা ক্যামোমিল চা ইত্যা্দি ঘুমের আগে খেতে পারেন। এগুলো ঘুম ভালো করতে সাহায্য করবে।
১০. প্রোগ্রেসিভ মাসেল রিলাক্সেন ব্যায়াম
১৯১৫ সালে আবিষ্কার হওয়া ব্যায়ামের এই পদ্ধতি এখনো পুরোনো হয়নি। প্রোগ্রেসিভ মাসেল রিলাক্সেন ব্যায়াম এমন একধরনের ব্যায়াম যা পেশিকে শিথিল করে। এটি অবসন্নতা দূর করে ঘুমের পরিমাণ বাড়ায়। তাই ফিটনেস প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের ব্যায়ামও শিখতে পারেন।
ঘুম নিয়ে মানুষের সমস্যার কোন কমতি নেই। বেশীরভাগ মানুষ সময়মত ঘুমাতে পারেন না। বিছানায় শোবার পরও ঘুম আসার কোন খবর থাকে না। যার ফলে দেখা যায় বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।

যাই হোক, আমাদের সকলের পর্যাপ্ত পরিমাণ ও সময়মত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করলেই নিদ্রাজনিত সমস্যা দূর হতে পারে। আসুন জেনে নেয়া যাক, সেই জাদুকরি উপায়-
১. ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে বই পড়ুন:
ঘুম আনয়নের সব থেকে সহজ উপায় হল বিছানায় যাবার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন। তারপর বিছানার পাশে হালকা আলোর বাতিতে বই পড়ুন। কোন মজাদার বই পড়ার দরকার নেই, এমন কোন বই পড়বেন যাতে আপনার বিরক্তিবোধ হয় এবং আপনি ঘুম অনুভব করেন। বই পড়ার কারনে আপনি ইলেক্ট্রনিক পণ্য অর্থাৎ মোবাইল, ট্যাব, টিভি ইত্যাদি হতে দূরে থাকবেন। যার ফলে আপনার ঘুমের সমস্যা রোধ হবে। তাই, আগামীবার থেকে আপনার বিছানায় একটি বই রাখবেন।

২. বিছানায় যাবার সময় নির্ধারণ করুন:
একটি নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই আপনার বিছানায় যাবার জন্য নিজেকে বাধ্য করবেন। এর ফলে আপনার ঘুমের সমস্যায় যথেষ্ট উপকার পাবেন। এর ফলে শুধু আপনার শারীরিক উন্নতি নয়, মানসিকভাবেও অনেক সুফল ভোগ করবেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাবার অভ্যাস করলে সেই সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই ঝিম ভাব চলে আসবে। তখন আপনার ঘুমাতে যেতে হবে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও একই। সময়মত ও একই সময়ে ঘুমানোর কারনে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও মিলাটোনিন ঠিকমত কাজ করতে পারে। যার ফলে আপনার সার্কাডিয়ান তালের সামঞ্জস্য বজায় থাকে। তাহলে, এটা বলা বাহুল্য যে ভালোভাবে ঘুমের জন্য সঠিক সময়ে ঘুমানো অপরিহার্য।

৩. স্বাস্থ্যকর ডায়েট পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
সবকিছুর ক্ষেত্রে সকলেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। আপনি শুনে অবাক হতে পারেন যে, ভালো ডায়েটের সাথে খাবারের সম্পর্ক রয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খাবার ফলে শরীরের পালস এর গতি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ঘুমের সমস্যা দূর হয়। খাবারের ফলে শরীরের ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং অন্যান্য অপরিহার্য খনিজ এর চাহিদা পূরণ হয়। এছাড়া সঠিক ডায়েটের কারনে শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যা সঠিক সময়ে ঘুম আসার সাথে সাথে সঠিক সময়ে জাগ্রত হবার জন্য সাহায্য করে।

৪. আপনার কক্ষ ঠাণ্ডা রাখুন:
ঘুমের সময় আপনার শয়ন কক্ষটি খুব শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। বছরের পর বছর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর সময় মানুষের শরীরের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। তাই, যতটা সম্ভব ঘরের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা রাখলে ঘুম ভালো হয়। তবে কক্ষের তাপমাত্রা বেশী ঠাণ্ডা করার প্রয়োজন নেই। পাখা চালিয়ে ঘুমালে বা একটি জানালা খুলে রাখলেই যথেষ্ট। দেখবেন, খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছেন।

৫. গরম দুধ পান করুন:
আগেরদিনের মানুষেরা বিশ্বাস করত ঘুমের আগে গরম দুধ পান করলে ঘুম ভালো হয়। তাদের এই বিশ্বাস এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমাতে যাবার পূর্বে গরম দুধ পান করার ফলে মানসিক প্রশান্তি বিরাজ করে। এতে সারারাতের ঘুম ভালো হয়। শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে ঘুমের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

এই ৫টি কাজ অভ্যাসে পরিবর্তন করলে প্রতিদিন রাতে বিছানায় যাবার মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম চলে আসবে। তাই যাদের ঘুম নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তারা এ পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।–সূত্র: লাইফ হ্যাক।
মানসিক বিভিন্ন চাপের কারণে অনেক সময় মনোবল হারিয়ে ফেলি আমরা। অনেক সময় আবার চিন্তাগত ত্রুটির কারণেও মনোবল কমে যায়। আর মনোবল কমে গেলে কাজের গতি ব্যাহত হয়। এতে ব্যর্থতা, হতাশা গ্রাস করে আরো বেশি। তাই মনোবল বাড়ানো জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সালমা পারভিন বলেন, ‘মানুষের জীবনকে চালিয়ে নেওয়ার জন্য মনোবল ধরে রাখাটা খুব জরুরি। পরিস্থিতি মোকাবিলার শক্তি মানুষকে এগিয়ে নেয়।’
মনোবল কেন কমে
মনোবিশেষজ্ঞ সালমা পারভিনের মতে :
  • যখন মানুষ তার নিজের ক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা না রাখে, তখন মনোবল কমে যায়। এ সময় মানুষ নিজের অক্ষমতা, দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। আর এতে মনোবল কমে।
  • চাপমূলক পরিস্থিতিতে অনেকের মনোবল কমে যায়।
  • যখন অন্যের নেতিবাচক কথা দিয়ে বেশি প্রভাবিত হয়।
  • বারবার ব্যর্থ হতে থাকলে।
  • খুব সহজেই যেকোনো উপসংহার বা সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা থেকে এমন হয়। চিন্তার ত্রুটিগত কারণ এর জন্য দায়ী। এতে মনোবল কমে।
  • অনেকে নিজের কাজের জন্য অন্যকে দোষারোপ করে। নিজের ব্যর্থতার দায় নিজে নিতে চায় না। এটি পক্ষান্তরে নিজের শক্তি কমায়।
  • অনেকের ব্যক্তিত্বের ধরন থাকে অল্পতেই নার্ভাস বা হতাশ হয়ে যাওয়ার। তাদের ক্ষেত্রে মনোবল কমে যায়। একবার ব্যর্থ হওয়ার পর ওই কাজ আর করতে চায় না। সাফল্যের চেষ্টা করে না। এটিও মনোবল কমিয়ে দেয়।
  • অনেকে ভাবে আমাকে পারতেই হবে বা করতেই হবে। তখন একটি বাড়তি চাপ কাজ করে। এতে মনোবল হারায়। সেটি না করে একটু বলা ভালো আমি কাজটি করার চেষ্টা করব। আর চেষ্টা করলে কিছু ভালো জিনিস আসে। এতে মনোবল বাড়ে।

মনোবল বাড়াতে
১. নিজের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। নিজের ইতিবাচক গুণাবলি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিজের ভেতর ইতিবাচক যেসব জিনিস রয়েছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে—‘আমি পারি’।
২. নিজের ক্ষমতাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা। একবার ব্যর্থ হলে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা।
৩. কোনো সমস্যা সমাধান করতে না পারলে অন্যদের সহযোগিতা নেওয়া। নিজেকে বলা, অন্য কেউ পারলে আমিও পারব।
৪. প্রথমেই সবকিছু ভয়ংকর বা চাপমূলক না ভাবা। বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ বা জটিল না ভাবা।
৫. কোনো কাজে খুব হতাশ লাগলে নিজেকে বলা, আচ্ছা ঠিক আছে ‘চেষ্টা করে দেখি’। শিথিল থাকার চেষ্টা করা। এতে মনের ওপর চাপ কম পড়ে। তখন ব্যর্থতার পরিমাণ কম হয়।
৬. ব্যায়াম করা।
৭. ইতিবাচক চিন্তা বাড়ানো।
৮. ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে বর্তমানের নিজের কাজটা ঠিকমতো করে যাওয়া। নিজের কাজ চালিয়ে গেলে ধাপে ধাপে সফলতা আসবে।

Friday, February 24, 2017

উৎকন্ঠিত হবার মানুষের অনেক যথার্থ কারন থাকে। যেমন আপনার পরিবারের কেউ হঠাৎ কিছু না বলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে কোন কারন ছাড়াই যদি বাসায় না ফেরে তাহলে আপনি উৎকন্ঠিত হবেন। অথবা আগামি কাল আপনার একটি জটিল অপারেশন অথবা কোন ধরণের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক হুমকি, বিপদ বা অনাকাঙ্খিত ঘটনার আভাস পেলে আপনি সতর্কিত হবেন, সেটি মোকাবেলা করার জন্য উৎকন্ঠিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃত কারণে উৎকন্ঠিত হওয়াটা কোন অস্বাভাবিকতা নয় বা এটি কোন রোগ ও নয়।


উৎকন্ঠা (Anxiety) বা এংজাইটি দুই রকম ভাবে হতে পারে, প্রথমত- উৎকন্ঠিত হবার মতো যথার্থ কোন কারন কোন আসন্ন বিপদ বা ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা) না থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ মনগড়া কারনে অযথা ভীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। যেমন স্কুল থেকে আপনার সন্তানটি হারিয়ে যাবে বা কিডনাপ হবে ভেবে স্কুলের গেটের কাছে বসে বসে ঘামেন বা স্কুলের ছাঁদ থেকে পড়ে যাবে ভেবে আপনার সন্তানকে স্কুলেই পাঠানো বন্ধ করে দেন। দ্বিতীয়ত- ভয় পাওয়ার কারন রয়েছে কিন' কারন অপেক্ষা আপনার উৎকন্ঠার পরিমান অস্বাভাবিক বেশি। যেমন- আপনার পাশের ফ্লাটে অল্প বয়সি একজনের হার্ট এটাক হয়েছে শুনে ভাবতে থাকেন আমারও তো বুকে ব্যথা হয়, আমারও হার্ট এটাক হচ্ছে। অথবা কোন বাড়ীতে চুরি হয়েছে শুনে চোরের ভায়ে চারটে কলাপসিবল গেটে আটটি তালা ঝুলিয়েও রাতে ঘুম আসছে না। দিনের পর দিন এভাবে চলতে চলতে আপনি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন।

মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় উৎকন্ঠা বা এংজাইটি প্রধানত তিন প্রকার-

১. জেনারেলাইজড এংজাইটি ডিসর্ডার - যেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় সবসময় সবকিছু নিয়ে উৎকন্ঠিত হন।
২. ফোবিক এংজাইটি ডিসর্ডার - কোন বিশেষ বস্তু, প্রানী, পরিবেশ, পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়া। যেমন অনেক লোকের ভীড়ে গেলে উৎকন্ঠিত হওয়া (Agoraphobia) , তাই ভীড়ের জায়গা এড়িয়ে চলেন তারা। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি ঐ বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে উৎকন্ঠিত হন না।
৩. প্যানিক ডিসর্ডার - কোন বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয়েও মাঝে মাঝে নিজের কল্পনা প্রসুত কারনে উৎকন্ঠিত হওয়া, যেমন রাতে শুয়ে আছে, হঠাৎ আজ রাতে যদি আমার হার্ট এটাক হয় এটা ভেবেই নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দিলেন। এক্ষেত্রে উৎকন্ঠিত হবার মত নূন্যতম কোন বাস্তু বা ঘটনাই উপস্থিত নেই।



উৎকন্ঠার লক্ষণ নানা রকম হতে পারে -
• ভীতি গ্রস্থ হওয়া
• খিটখিটে মেজাজ
• সামান্য শব্দে উত্তেজিত হওয়া
• অস্থিরতা
• মনোযোগের অভাব
• ভুল পথে চিন্তা করা
• মুখ-জিহবা শুকিয়ে যাওয়া ও পানি পিপাসা পাওয়া
• ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া
• পেটে অস্বস্তি বোধ করা
• পেট ফাঁপা ভাব
• বারবার বাথরুমে যাওয়া
• বুকে চাপ অনুভব করা
নিঃশ্বাস  নিতে অসুবিধা হওয়া
• বুক ধরফর করা
• মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা হওয়া
• হাত পা এর কাপুঁনি হওয়া - বিশেষত হাতের আঙ্গুল কাঁপা
• মাথা ব্যথা,গা ব্যথা,হাত পা জ্বালা করা
• ইনসমনিয়া (ঘুম কম হওয়া),হঠাৎ ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে জেগে উঠা
দুঃশ্চিন্তা করা
• দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানো
• বসে বসে পা নাড়ানো
• ক্ষিধে কমে যাওয়া
• বিষন্নতা
• অবসেশন - বিশেষ কিছু নিয়ে ক্রমাগত ও বারবার চিন্তা করা (রাতে শোবার পর কয়েকবার উঠে দেখা দরজা বন্ধ করা হয়েছে কি না)
• উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়ার কারন - বিশেষ বস্তু, প্রাণী, ভীড়, সামাজিকতা ইত্যাদি এড়িয়ে চলা
• ঘাম হওয়া,বমি বমি ভাব হওয়া
• হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসা
• মৃত্যুভয় পাওয়া ইত্যাদি
সবগুলো লক্ষণ যে একই ব্যক্তির মধ্যে একসাথে পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয়, বরং উৎকন্ঠার প্রকারভেদে কিছু লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন সময় দেখা যায়।


মানসিক অসুস্থতার মধ্যে উৎকন্ঠা বা Anxiety নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে কেবলমাত্র ওষুধ প্রয়োগ করে এ রোগের লক্ষণগুলো কমিয়ে রাখা যায় কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় করবার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরন করা যেতে পারে, যেমন –
• সাইকোথেরাপি বা মনোচিকিৎসা - মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে।
• আচরণ পরবর্তন করার প্রক্রিয়া (Behaviour therapy)।
• শিথিলায়ন প্রক্রিয়া (Relaxation technique)।
• মেডিটেশন।
• আত্মসম্মোহন।
• যোগব্যায়াম - কমপক্ষে বিশ মিনিট করে প্রতিদিন।
• প্রয়োজন মতো ঘুমানো।
• খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন - সহজপাচ্য খবার ও প্রচুর পানি পান করা।
• ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করা ও অতিরিক্ত মদ্যপান কমানো।
• বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এন্টি-এংজাইটি ওষুধ সেবন।
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারনে -অকারনে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা।

মনে রাখতে হবে একজন উৎকন্ঠিত রোগীর জন্য - উপসর্গ, রোগীর বয়স ইত্যাদি ভেদে উপরের প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে বাছাই করে চিকিৎসাপদ্ধতি প্রদান করা হয়।
এংজাইটি থেকে সৃষ্টি হতে পারে বিষন্নতার মতো কঠিন মানসিক ব্যাধি, এছাড়া এংজাইটি আমাদের যাপিত জীবনের গুণগত মান কমিয়ে দেয় বহুলাংশে, তাই উৎকন্ঠা নিয়ে উৎকন্ঠিত হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাই দেরি না করে উৎকন্ঠা কমানোর জন্য মেনে চলুন কিছু নিয়ম কানুন, মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম চর্চা করতে পারেন আর প্রয়োজনে সহায়তা নিন চিকিৎসকের।
Powered by Blogger.

Contact us

Name

Email *

Message *

Followers

Featured Posts

Social Icons

Pages

Facebook

Video

সর্বাধিক পঠিত

Our Facebook Page

Text Widget